বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

০৭ অক্টোবর, ২০২২ ২১:৪৬

সমঝোতায়ও শান্তি ফেরেনি বিশ্বনাথের চাউলধনী হাওরে

বিশ্বনাথের চাউলধনী হাওরে লিজের জলাশয়ের বাইরে মাছ ধরছেন ইজারাদারের লোকজন

প্রশাসনিক উদ্যোগে সমঝোতা বৈঠকের পরও বিশ্বনাথের সর্ববৃহৎ চাউলধনী হাওরের পরিবেশ শান্ত হয়নি। সীমানা জটিলতার ইস্যুতে হাওরে মাছ ধরা নিয়ে ইজারাদার ও ২৫ গ্রামের কৃষকদের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় দুই পক্ষের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠিত সেখানকার সাধারণ মানুষ।

কৃষকদের অভিযোগ, যে সব শর্তে সমঝোতা হয়েছিল তা রক্ষা করেননি ইজারাদাররা। অপরদিকে ইজরাদারদের দাবি, চাউলধনী হাওর ও কৃষক বাঁচাও আন্দোলন কমিটি এবং গ্রামের কৃষকদের হয়রানির কারণে ইজারাকৃত জলাশয়ে মাছ ধরতে পারছেন না তারা।

কৃষি অফিসসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চাউলধনী হাওরে জলাশয়, পুকুরসহ প্রায় ৮ হাজার একর জায়গা। ২০১৭ সালে ১০ লাখ ১৫ হাজার ৬২৫ টাকা বার্ষিক হারে ৫ বছরের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ১৭৮ একর জলমহাল ইজারা নেয় স্থানীয় দশঘর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এরপর ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত শর্ত ভঙ্গ করে হাওর শুকিয়ে মাছ ধরে বিক্রি করেছে তারা। এতে পানির অভাবে সেচ সংকটে পড়ায় স্থানীয় ২৫ গ্রামের কৃষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।

এর জের ধরে গত বছর বিশ্বনাথের চৈতন্যনগরে ক্ষেত থেকে মাটি তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাওর ইজারাদারদের ফাউন্ডার যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলমের গুলিতে নিহত হয় স্থানীয় স্কুলছাত্র শুকুর আহমেদ সুমেল। মামলার পর প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল কারগারে রয়েছেন। তবে বাকি ৩১ আসামি জামিন পাওয়ার পর হাওরে নামতে চাইলে প্রতিবাদ সভা করেন কৃষকরা। অবস্থা বেগতিক দেখে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ইউএনও নুসরাত জাহানসহ অন্যদের উপস্থিতিতে শর্তসাপেক্ষে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।

হাওর ঘুরে দেখা গেছে, ইজারাদারদের পক্ষে লিজের বাইরে ব্যক্তি মালিকানা জায়গায় হাওরের ঘাইট্টার কাড়া, মরা গাঙ, আছিবের জেড়া এবং শিংগুয়ার বিলে নিষিদ্ধ জাল স্থাপন করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে আনছার আলী মাছ ধরার কথা স্বীকার করলেও দশঘর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, ‘কৃষকদের বাধার কারণে এখনও মাছ ধরা শুরু করতে পারিনি।’

আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম বলেন, ‘সমঝোতার পর আবারও শর্ত ভঙ্গ করে মাছ ধরছেন ইজারাদাররা। এ ব্যাপারে বার বার লিখিতভাবে অভিযোগ দিলেও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছেন না তারা।’

ওসি গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিনই দুই পক্ষের মৌখিক অভিযোগ পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিবেশ শান্ত করা হচ্ছে।’

এদিকে কৃষকদের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ইউএনও নুসরাত জাহান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা জাহান সরকার বলেন, ‘আদালতের নিদের্শনা মতো সীমানা নির্ধারণ শুরু করা হয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত