সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

০২ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:৪০

সুনামগঞ্জে কুস্তি প্রতিযোগিতা শুরু শনিবার, ৪ উপজেলার দর্শকদের বিনামূল্যে দেখার সুযোগ

সুনামগঞ্জে শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে দুইদিন ব্যাপি কুস্তি প্রতিযোগিতা। মাদক থেকে বর্তমান যুব সমাজকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এ কুস্তি খেলার প্রসার ও প্রচারের লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা। জেলার একমাত্র স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এ প্রতিযোগিতা।

এ প্রতিযোগিতায় দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী ব্যবস্থা করেছেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও  সুনামগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সেলিম আহমদ।

দুইদিন ব্যাপি অনুষ্ঠিত এ কুস্তি প্রতিযোগিতায় তার নির্বাচনী এলাকা তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা থেকে খেলা দেখতে আসা সকলের টিকেট ব্যয় নিজেই বহন করবেন বলে বার্তা দিয়েছেন।

সেলিম আহমদ বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলার মধ্যে একটি হল কুস্তি। এটি দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের গ্রামেগঞ্জে চর্চা করে আসা হচ্ছে, এ খেলার বিশেষত্ব হল এ গ্রামের মানুষ আরেক মানুষকে দাওয়াত করে কুস্তি খেলার জন্য, তারা যায় খাওয়া দাওয়া হয় গ্রামের লোকজন আসে খেলা দেখতে, এটি সামাজিক ভাববিনিময়ের একটি মাধ্যম হিসেবেও পরিচিত। তবে কিছুদিন হল জেলা প্রশাসক ও ক্রীড়া সংস্থা কুস্তি খেলার আয়োজন করেছেন, কিন্তু তারা ফান্ড ক্রাইসেস এর জন্য টিকেট প্রথা চালু করেছেন, যা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে বিতর্ক হচ্ছে, কিন্তু আমরা চাই যেনো এই খেলাটি হারিয়ে না যায়, সেজন্য যখন টিকিটের কথাবার্তা আসলো তখন আমি চার উপজেলা অর্থাৎ তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর এলাকার মানুষের জন্য টিকেট ফ্রি করে দিয়েছি। তারা মাঠে এসে কোন টাকা ছাড়াই খেলা দেখতে পারবেন।

৪ উপজেলায় টিকিট ফ্রি করে দেয়ার ব্যাপারে সেলিম আহমদ বলেন, খেলাটি জনপ্রিয় গ্রামবাংলার মানুষের কাছে, শহরের মানুষে যতটা না আগ্রহ তার বেশি আগ্রহ গ্রামের মানুষের তবে টিকিটের যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে সেই টাকা দিয়ে শ্রমজীবী ও কৃষক ভাইয়েরা আসবেন না, সেজন্য আমি তাদের কথা চিন্তা করে আমি ৪ উপজেলার মানুষের দায়িত্ব নিয়েছি, আমি চাইবো এভাবে যদি জেলার ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন তাহলে একদিকে আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাটি বাঁচিয়ে রাখা যাবে অন্যদিকে যার জন্য আয়োজন সেটিও উন্নয়ন হবে।
 
জানা যায়, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ কুস্তি প্রতিযোগিতায় টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা করে। যা নিয়ে বিতর্ক চলছে জেলাজুড়ে।

শহরের জেলরোড এলাকার বাসিন্দা রাজনারায়ণ চৌধুরী বলেন, এটি আমাদের গ্রামের খেলা এটিকে অন্তত্য ফ্রি করে দেয়া যেতো, শহরের অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তিরা ছিলেন তারা এটির জন্য সহায়তা করতে পারতেন কিন্তু এসব কিছু না করেই প্রশাসন নির্ধারিত টিকিট ফি দিয়ে খেলা দেখতে যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেশিই, আর বন্যা ও করোনা মহামারীর পর এতো বড় উৎসবের জন্য আয়োজনটি উন্মুক্ত করা উচিত ছিল, সেক্ষেত্রে দর্শক মাঠে ফিরতো কিন্তু এভাবে ফিরবে না।

কুস্তি প্রতিযোগিতা কমিটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, শ্রমিক লীগের সভাপতি যে টিকেটগুলো ফ্রি করে দিয়েছেন সেটির সাথে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোন সম্পর্ক নেই, এটি উনি এবং যিনি এই প্রতিযোগিতার জন্য মাঠ লিজ নিয়েছে তাদের সাথে।

তিনি বলেন, কুস্তি খেলার জন্য আমাদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ আমরা চাই এই খেলাটি হারিয়ে না গিয়ে যে যুব সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এরকম বিনোদনমূলক খেলার বিকল্প নেই।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত