১৯ ফেব্রুয়ারি , ২০২৩ ১৪:৩৩
‘আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা / ফুল তুলিতে যাই, ফুলের মালা গলায় দিয়ে / মামার বাড়ে যাই। ঝড়ের দিনে মামার দেশে / আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে / রঙিন করি মুখ...।’
পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের ‘মামার বাড়ি’ কবিতার পঙক্তিগুলো বাস্তব রূপ পেতে বাকি রয়েছে আর মাত্র কয়েক মাস। তবে সুখের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে। গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, আম গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ।
এদিকে মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলোতে। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে।
গাছের মালিকেরা জানান, মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তারা।
তারা আরও জানান, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ অবস্থা থাকলে এ বছর ভালো পরিমাণে আম পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহিদুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক আম বাগানের পরিমাণ খুবই কম। তবে সব বাড়িতেই প্রয়োজনীয় আমগাছ রয়েছে। এসব গাছে আমের গুটি আসার পরেই পরপর দুই বার ছত্রাক নাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে গুটি আম ঝড়ে পড়া বন্ধের পাশাপাশি গাছের আম পোকামুক্ত থাকবে। ফলের আশানুরূপ ফলনও পাওয়া যাবে।
আপনার মন্তব্য