২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:০৯
সিলেটে মসজিদের নামকরণ নিয়ে সালিসি বৈঠকে দিলওয়ার হোসেন (দিলবর) (৫০) হত্যার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও খুনের ঘটনায় জড়িত মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার ৭ নং মোগলগাঁও ইউনিয়ন গালমশাহ গ্রামে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে গালমশাহ গ্রামের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি শফিক মিয়া ও সেক্রেটারি কলিম উল্লাহর উপস্থিতিতে বক্তব্য প্রদান করেন— নাজিম উদ্দীন মেম্বার, বাবুল মেম্বার, মোবারক আলী, সলিম উল্লাহ, বারিক উল্লাস, নুর উদ্দিন, তারেক আহমদ ও খালেদ হোসেনস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হুশিয়ার আলী, আব্দুন নুর, বশির মিয়াসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা অবিলম্বে খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মানবন্ধনে এলাকাবাসী পুলিশের রহস্যজনক ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মানবন্ধনে নিহত দিলবরের ছেলে সাইদুল ইসলাম সোহাগ (১৫) ও তিন বছরের ভাই নুর মোহাম্মদ শারুফকে (৩) কাঁদে নিয়ে ভারী কণ্ঠে —পিতার বিচার দাবি জানিয়ে বলেন, আমার বাবাকে পুর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার আগের রাতে হত্যাকারীরা আমার বাবাকে হত্যা করার প্রি-প্ল্যান করে। আমরা অতি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে ফাঁসি দেখতে চাই। এসময় দুই ছেলের কান্নার তীব্রতায় পুরো পরিবেশকে ভারাক্রান্ত করে তোলে।
গালমশাহ গ্রামের পঞ্চায়েত কমিটির প্রবীন মুরব্বি মোবারক আলী পুলিশের উপর ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। দেশে এখন আধুনিক ডিজিটাল সিস্টেম থাকার পরও কেন আসামীরা ধরা ছোয়ার বাহিরে তা আমরা ভালো করে জানি এবং বুঝি। অনতিবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার করা না হলে গালমশাহ গ্রামে যদি কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে —তাহলে এর পুরো দায়ভার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিতে হবে।
তিনি আসামীদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম জানিয়ে বলেন, যদি এক সপ্তাহের মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে আমরা এলাকাবাসীকে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবো। এবং বৃহত্তর কর্মসুচি ঘোষণা করবো।
এ ব্যাপারে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবীবের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল বিকেলে সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের গালংশাহ গ্রামের পঞ্চায়েতি জামে মসজিদের সামনে জু'ম্মা নামাজের পর মসজিদের নামকরণ নিয়ে সালিসি বৈঠকে মতবিরোধের জেরে একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়।
এমন সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দেলোয়ার হোসেন দিলবরের ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার একদিন পর নিহত দিলবরের ভাই সুহেল আহমদ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে সিলেট মেট্রোপলিটন (এসএমপি) আওতাধীন জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আপনার মন্তব্য