০৮ মার্চ, ২০২৩ ২৩:০৭
দুর্বৃত্তায়নের কবলে পড়েছে রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরের হিজল করচ বাগান। বাঁধের নামে ধ্বংস করছে জীব বৈচিত্র্য, পরিবেশ। হাওরের পলিয়ার বিলের অর্ধশতাধিক হিজল, করচগাছ কেটে ও গুড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু বাসিন্দার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) দিনে বা রাতের কোনো এক সময় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মন্দিয়াতা ও বিনোদপুর গ্রামের পাশে পলিয়ার বিলে ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা জানা গেছে, অভিযুক্ত ইউসুফ আলী ও গোলাপ নুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের তেরঘর গ্রামের বাসিন্দা। তবে তারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আপনি আসেন এসে দেখে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এরাল্লাকোনা হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করার জন্য পলিয়ার বিলের ভিতরে নিজ উদ্যোগ নিয়ে বাঁধ নির্মাণ (আফর রক্ষা) করার জন্য পলিয়ার বিলের ভিতরে হিজলবাগের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার ছোট-বড় অর্ধ শতাধিক হিজল গাছ কেটে নিয়ে গেছে ইউসুফ আলী ও গোলাপ নুর। হিজল বাগে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি মাটি কাটার মেশিন রয়েছে।
আরও জানা যায়, এরআগেও একইভাবে টাঙ্গুয়ার হাওরের বিভিন্ন অংশ রক্ষিত থাকা সারি সারি হিজল-করচশোভিত নলখাগড়া, হিজল-করচ গাছ অবৈধভাবে কর্তন করে একটি চক্র উজাড় করেছে। অব্যাহত কর্তনের ফলে টাঙ্গুয়ার হাওরের হিজলবাগ গাছশূন্য হয়ে পড়ছে। গত ৫ বছরের ব্যবধানে এখানকার গাছ কেটে সাবাড় করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এছাড়াও হাওরের পাখি, মাছ ও জলজ প্রাণি ধ্বংস হচ্ছে প্রতিদিন।
হাওর পাড়ের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় হাওরে ৪টি আনসার ক্যাম্প (মুজরাই, গোলাবাড়ি, রামসিংহপুর, রংসী) থাকলেও বিশাল অভয়াশ্রমের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করছেন না দায়িত্বশীলরা। হাওর রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি গার্ডের সদস্য, ম্যাজিষ্ট্রেটের নৌকার মাঝি, স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি এবং হাওর রক্ষার নামে বিভিন্ন সংগটনের নেতারা এ অনিয়ম প্রতিরোধ তাদের কোন কার্যক্রম দেখা যায় না।
টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের বাসিন্দা আরিফ মিয়া জানান, টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রকৃতিক সৌন্দর্যে এক সময় লাখো মানুষকে আকৃষ্ট করত। এখন দিন দিন মানবসৃষ্ট নৃশংসতার কবলে পড়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়াসহ জীববৈচিত্র্য হারাচ্ছে হাওর। আমি হাওরে গিয়ে এই গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে অবাক হয়েছি। হাওরের সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
হাওর ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের বাসিন্দা আহমেদ কবির। তিনি জানান, যেভাবে হাওরের গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে, একটা সময় আসবে আর গাছ থাকবে না। এতে করে জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক ও পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়বে। টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এছাড়াও পলিয়ার বিলের কোন সময়ই বাঁধ হয়নি আর প্রয়োজনও পড়েনি।
তাহিরপুর উপজেলার সহকারী কমিশন (ভূমি) আসাদুজ্জামান রনি জানান, গাছগুলো যারা কেটেছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা জানান, পলিয়ার বিলের ভিতর বাঁধ নির্মাণ কাজ করছে তা আমি জানি না। যারা বাঁধের কাজ করছে তারা আমার সাথে কোন কথা বলেনি, অনুমতিও নেয়নি। গাছ কোনোভাবেই কাটা যাবে না। যারা এই গাছ কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য