০১ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৬:৩৯
বয়স নয় পেরোয়নি, ছিপছিপে গড়ন। তাঁর বয়সী অন্যরা নতুন বছরের নতুন বই হাতে নিয়ে আনন্দে ভাসছে। এসবের দিকে না তাকিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে বাদাম বিক্রি করে যাচ্ছিল সে।
কথা হল তাঁর সাথে। নাম হৃদয় আহমদ। স্কুলে পড়ে কিনা জিজ্ঞেস করতে বলল সে 'বন্দের স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র'। বিদ্যালয়টির ভাল নাম এমএইচএস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
আজ তাঁর স্কুলেও নতুন বই বিতরণ হচ্ছে। তবে সেখানে না গিয়ে বড়লেখা পৌর শহরে এসেছে বাদাম নিয়ে। এটাই তাঁর জীবিকা। পড়ালেখার ফাঁকে বাদাম বিক্রি করে সে। কিংবা বাদাম বিক্রি করার ফাকেই চালায় পড়া লেখা। আলাপচারিতায় বলল পরিবারে ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে দ্বিতীয় সে। বাবা মাকে সাহায্য করতে তাই আয় রোজগারে নেমেছে। পৌর শহরের সোনাপুর এলাকায় অস্থায়ী নিবাস হলেও বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। বাদাম বিক্রি করে দৈনিক ২০০/২৫০ টাকা আয় হয় তার।
জানাল তার মা টাকা জমাচ্ছেন। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা হলেই ভৈরবে জমি কিনবে তারা। সেখানে তৈরি হবে নতুন বাড়ি। লাগানো হবে আগর গাছ। আর কোন অভাব থাকবে না তাঁদের। ততদিন পর্যন্ত পড়ার বয়স থাকলে সেও নতুন বই আনতে যাবে বছরের প্রথম দিন।
আপনার মন্তব্য