দেবব্রত চৌধুরী লিটন

০১ জানুয়ারি, ২০১৬ ২০:৩৭

প্রাণের উচ্ছ্বাস আর বর্ণিল আয়োজনে শেষ হল শ্রুতির পিঠা উৎসব

কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনে নতুন বছরের শুরুতে  শ্রুতি সিলেট আয়োজন করে পিঠা উৎসবের। সিলেট নগরীর সুবিদবাজারস্থ ব্লুবার্ড স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণ এই উৎসবকে ঘিরে পরিণত হয় মিলন মেলায়। সকাল সাড়ে ৭ টায় শুরু হয় দিন ব্যাপী এই উৎসবের। কুয়াশা ঢাকা নগরীতে হিমেল বাতাসের পরশে চাদর গায়ে জড়িয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন দর্শনার্থীরা। ভৈরবী সুরের আহবানের মাধ্যমে শুরু হয় পিঠা উৎসবের।

পিঠা উৎসব আয়োজনের উদ্বোধনী পর্বে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ আমাতুল কিবরীয়া কেয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ভবতোষ বর্মণ রানা, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, ব্লুবার্ড স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হুসনে আরা শিশু একাডেমির জেলা সংগঠক সাইদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রুতি সিলেটের সদস্য সচিব সুকান্ত গুপ্ত। বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি অনুপ কুমার দেব, সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম সেলিম, শ্রুতির সমন্বয়ক সুমন্ত গুপ্ত।

দিন ব্যাপী পিঠা মেলার পাশাপাশি একক ও সমন্বিত পরিবেশনায় সারা দিনই মুখরিত ছিল উৎসব অঙ্গন। বাউল আব্দুর রহমান, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী মীরা মন্ডল, কুষ্টিয়ার লোক সংগীত শিল্পী সমীর বাউল ও তার বাউল, বেঙ্গল পরম্পরার স্কলার সুপ্রিয়া দাশ, সুবর্না দাশ মুন, প্রদীপ মল্লিক লিংকন দাশ উৎসব মঞ্চে তাদের পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন দলীয় পরিবেশনা নিয়ে  পিঠা উৎসবে অংশ নেয় জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ, গীত বিতান বাংলাদেশ, সংগীত পরিষদ, নৃত্যশৈলী, ছন্দে নৃত্যালয়, মৃত্তিকায় মহাকাল, শাবিপ্রবির আজ মুক্তমঞ্চ, শিকড়, দ্বৈতস্বর, নর্থইষ্ট ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাব, সুরের ভূবন, নৃত্যাশ্রম, নাট্যম সংগীত বিদ্যালয় ও আয়োজক সংগঠন শ্রুতির শিল্পীরা। উৎসবে বিষয় ও বিভাগ ভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে শিশু কিশোরা।

২৩ টি ষ্টলে শীতের পিঠা - পুলির পসরা সাজিয়ে উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের মনোযোগ কাড়ে শ্রুতি সিলেটের আয়োজন। ষ্টল গুলোতে পিঠা খেতে ভিড় জমান নারী পুরুষ সকল বয়সের মানুষ।

উৎসব স্থলের সামনে কথা হয় বাউল শিল্পী আবদুর রহমানের সাথে। তিনি জানান বাঙালি ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে, সেই ক্ষেত্রে শ্রুতির কর্মকাণ্ড কিছুটা হলেও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কাজ করছে। মন থেকে তারা এমন আয়োজন করে বলেই আজ মানুষের কাছে শ্রুতি ভাললাগার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি অনুপ কুমার দেব বলেন শ্রুতির আয়োজন খুবই গোছানো। সিলেটের অনেক শিল্পী উঠে এসেছে শ্রুতির মাধ্যমে ।

বোনের সাথে পিঠা উৎসবে আসা এডভোকেট নিবেদিতা রায়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন মানুষের আশার একটি জায়গা তৈরি করেছে শ্রুতি ভিন্ন ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে  তাই ধন্যবাদ তাদেরই প্রাপ্য।

শ্রুতি পিঠা উৎসবের সদস্য সচিব সুকান্ত গুপ্তের কাছে এই আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান আবহমান বাংলার ঐতিহ্য নিয়ে যাতে নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠে মানবিক গুন সম্পন্ন মানুষ হয়ে বেড়ে উঠে তার জন্য শ্রুতির এই আয়োজন। লালন, হাসন, করিমের গান গুলোতে মানবতার কথা বলা হয়েছে। শুদ্ধ সংস্কৃতি রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

রাত সাড়ে ৮টায় প্রাণের উচ্ছ্বাস আর বর্ণিল আয়োজনে  সমাপ্ত হয় শ্রুতির  দিন ব্যাপী পিঠা উৎসবের।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত