নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ মার্চ, ২০২৩ ১৮:০৮

নগরনাটের 'দূর হ দুঃশাসন' ও মধ্যবয়সী নারীর কান্না

তারা বলেছিলো ১০ টাকা মূল্যে চাল খাওয়াবে, এখন কেউ কি ১০ টাকা দিয়ে চাল কিনতে পারেন?- নাটকের অভিনেতা যখন এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন তখন গোল হয়ে দাঁড়ানো শ দুয়েক দর্শক হাত নাড়িয়ে জবাব দেন- 'না, না'।

শনিবার সকালে সিলেট নগরের চাদনীঘাট এলাকায় দেখা যায় এমন দৃশ্য। সকাল ১১ টায় কীনব্রিজের পাশের সড়কে থিয়েটার নগরনাট পরিবেশন করে তাদের নতুন পথনাটক 'দূর হ দুঃশাসন'।  এই নাটকেই এমন একাত্ম হয়ে পড়েন অভিনেতা আর দর্শকরা।

অরুপ বাউলের রচনা ও নির্দেশনায় 'দূর হ দুঃশাসন' নাটকে উঠে এসেছে দেশ ও মানুষের সমসাময়িক সংকট ও ক্ষোভের বিষয়গুলি। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া, দফায় দফা্য় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচারসহ সম্প্রতিক ইস্যুগুলো নিয়েই এ নাটক। তবে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে মানুষের কষ্ট আর নাভিশ্বাসের কথা। ক্ষমতাসীনদের উন্নয়নের বুলি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ আজ ভালো নেই। মানুষের আয় কমছে, বাড়ছে ব্যয়। আয়ব্যয়ের এই অসঙ্গতিতে গরীব আরো গরীব হচ্ছে। মানুষের এই নাভিশ্বাসের চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে 'দূর হ দুঃশাসনে'।

সাধারণের জীবনঘনিষ্ট এ নাটকে মানুষের অব্যক্ত কষ্টগুলো ফুটে উঠায় দর্শকরাও হয়ে উঠেন নাটকের অংশ। একসময়ে অভিনেতা আর দর্শকের ফারাক ঘুচে যায়। দর্শকরাও অভিনেতাদের সংলাপের প্রতি উত্তর দিতে শুরু করেন। অভিনেতা যখন বলেন- 'যে উন্নয়ন আমাকে ফকির করে দেয়, সে উন্নয়ন আমি চাই না।' দর্শকরাও তখন বলে উঠেন- 'চাই না, চাই না'।

নাটক শেষে এক মধ্যবয়সী নারী দর্শক তো নাটকের প্রধান চরিত্র উজ্জ্বল চক্রবর্তীকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। জীবনযাপনের ব্যয় নির্বাহ করতে হাপিয়ে উঠেছেন এই নারী। চারদিকে এতো উন্নয়ন আর বৈভবের প্রদর্শনী যে নিজের কষ্টের কথা বলতে পারছিলেন না। কান্না করা তো দুরে থাক। এই নাটকেই যেনো নিজের জীবনকে খুজে পান এই নারী।

উন্নয়নের প্রচারের আড়ালে চাপা পড়া সাধারণের মানুষের এমন না করতে পারা কান্নাগুলোই সংলাপ হয়ে উঠেছিলো 'দূর হ দুঃশাসন'-এ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত