জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

০৩ জানুয়ারি, ২০১৬ ২৩:১৬

জগন্নাথপুরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়

জগন্নাথপুর পৌর এলাকার সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করার কারণে এখন পর্যন্ত অনেক দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারেননি। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ৩০ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে পৌর এলাকার মোট ৬ টি বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর স্বরুপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছায়াদ আলী জানান, এ বছর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৯৯২ টাকা থেকে ১০০২ টাকা ভর্তি ফি আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৯৭৬ থেকে ৯৮২ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পৌর এলাকার আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা জানান, এ বছর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ হুসবান্নুর জানান, এ বছর তারা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৮০০ থেকে ৮৪০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন।

ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুজ জাহের জানান, এবার তারা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৫৭০ থেকে ৮০০ টাকা আদায় করছেন।

এছাড়া উপজেলার রাণীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ জানান, এবার তারা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৬৩০ থেকে ৭০০ টাকা আদায় করছেন।

উপজেলার পাইলগাঁও বিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম বদরুজ্জামান জানান, এবার তারা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করছেন।

ভূক্তভোগী অভিভাবকদের মধ্যে অনেকে প্রশ্ন রেখে বলেন, উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোতে মাত্র ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ভর্তি ফি আদায় করা হলেও পৌর শহরের বিদ্যালয়গুলোতে কেন ৮০০ থেকে ১৩০০ টাকা আদায় করা হয়। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৌর এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত ফি আদায় করার কারণে এখন পর্যন্ত অনেক দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারেনি।

তারা অভিযোগ করে জানান, এসব বিদ্যালয়গুলো ভর্তির নামে গলাকাটা বাণিজ্য করছে। তারা ইউনিয়ন পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোর সাথে সমন্বয় রেখে ভর্তি ফি আদায় করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান।

এ ব্যাপারে জানতে জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মখলেছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভর্তি ফি আদায়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্ধারণ করে থাকে। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির জানান, ভর্তি ফি আদায়ের ব্যাপারে সরকারিভাবে কত টাকা নির্ধারণ আছে, তা আমার জানা নেই। তবে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত টাকা আদায় করার ব্যাপারে কোন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত