০৭ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৯:১৮
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে একটু সহযোগিতার জন্য সবার দিকে তাকিয়ে দিকে আছে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিবান। পুরো নাম জিবানুর রহমান জিবান।
জিবানের জীবন প্রদীপ এখন নিভু নিভু। পৃথিবী জয়ের অদম্য ইচ্ছেয় কলেজ ক্যাম্পাসে ফেরার দৃঢ় প্রত্যয়ী এই স্বপ্নবালক প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন সিলেট রয়েল হসপিটালের আইসিউতে। জীবন সংগ্রামী জিবানের দু’টি কিডনিই অচল হয়ে গেছে।
চিকিৎসকের মতে, জরুরী ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপন করা না হলে যে কোনো সময় নিভে যেতে পারে জিবানের সম্ভাবনায় সুন্দর জীবনপ্রদীপ। ধূসর হয়ে যেতে পারে তার স্বপ্ন, সাধ এবং ভালোবাসা; মুছে যেতে পারে চিরচেনা প্রিয়মুখ ‘জিবান’।
জিবানের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ছোটদেশ গ্রামে দুই বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে সে তৃত্বীয়। বাবা ফয়জুর রহমান বেঁচে নেই, বড় ভাই মিজান কৃষি কাজ করে কোনোমতে টেনেঠুনে সংসার চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাজারে দর্জির কাজ করে নিজের লেখাপড়ার খরচে সমর্থন যুগিয়ে আগামীর পথে এগিয়ে যাচ্ছিল জিবান। হঠাৎ করে সবকিছু কেমন যেন ওলোট-পালোট করে দেয় ‘কিডনি বিকল’ নামক ব্যাধি। থমকে যায় সে; ফিকে হতে শুরু করে তার অপার সম্ভাবনাময় পথচলার। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নেফ্রোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. ধ্রুব দাশের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে সে সিলেট রয়েল হসপিটালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আগামী শনিবার তাকে ডায়ালাইসিস দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া জানা যায়, যদি কিডনি ম্যাচিং হয় তবে সেচ্ছায় কিডনি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জিবানের মা আছিয়া বেগম।
কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন যা তাঁর মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সাহায্যের জন্য সমাজের সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তার পরিবার। সবাই যদি একটু একটু করে এই শিক্ষার্থীর সহায়তায় এগিয়ে আসেন তবে হয়তোবা জিবান ফিরে পেতে পারেন নতুন জীবন। ইতোমধ্যে তার স্কুল এবং কলেজের সহপাঠীরা অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সংগ্রহ করছেনও কিছু টাকা। নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং মহৎ উদ্যোগ কিন্তু এই সীমিত এই টাকা এবং উদ্যোগে কি মেটানো সম্ভব হবে জিবানের চিকিৎসা?
এদিকে তার নিজগ্রামবাসী ও ছোটদেশ সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে তাঁর চিকিৎসার্থে টাকা সংগ্রহের জন্য হুমায়ুন কবির শাহিদকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ছোটদেশ সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন জানান, ‘জিবানের চিকিৎসার সাহার্য্যার্থে তহবিল সংগ্রহের জন্য দেশ-বিদেশে সবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যস্থ ছোটদেশ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ১ লক্ষ টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এছাড়া তারা সেখানে চাঁদা তুলে আরো আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এছাড়া ফ্রান্সে বসবাসরত মুড়িয়া ইউনিয়নের প্রবাসীসহ যুক্তরাস্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসীরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন।’ সাহায্য সরাসরি পৌঁছে দিতে অফিসিয়ালি একটি ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছে। মোঃ অলিউর রহমান ও আছিয়া বেগম, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর- ১৪৪২১০৪০০১৪০৭৭, প্রাইম ব্যাংক বিয়ানীবাজার শাখা, সিলেট। এছাড়া যোগাযোগ করতে পারেন মিজানুর রহমান মিজান-০১৭৫৫-৮৬৭৭৪৫ এ নম্বরে।
ক্রমাগত ছোট হয়ে আসছে জিবানের পৃথিবী, কিন্তু বেঁচে থাকার আশাটা বড় বেশী তার। প্রশ্ন থেকে যায়, তবে কী এভাবেই মুকুলেই ঝরে যাবে জিবান! বিবেকের দায় কি আমাদের নাড়া দেবে না, যদি সে ঝরে যায়! একটু সহানুভূতি একটু ভালোবাসা প্রকাশের অপেক্ষা মাত্র।
‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না...।’ এমনি ভরসার বাণী সামনে নিয়ে অন্ধকারে নিভতে যাওয়া জিবান নামক প্রদীপকে আলোকিত করে তুলতে সবার সাহায্য একান্ত প্রয়োজন। তাই আসুন, জিবানের পাশে দাঁড়াই, এগিয়ে দেই সহযোগিতার হাত। বেঁচে উঠুক সে, স্বপ্নীল আকাশে অহর্নিশ ডানা মেলে উড়ুক তার রঙিন দিনগুলি।
আপনার মন্তব্য