ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ

২০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ২৩:৩১

নির্ভার মান্নান, আশাবাদী পাশাসহ তিন প্রতিদ্বন্দ্বী

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকটা দিন। এ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) এ ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিলেও শেষমেশ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ৪ জন। তাদের তিনজন জগন্নাথপুর উপজেলার ও একজন শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া গ্রামের সন্তান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন। নৌকা প্রতীকে চতুর্থবারের মতো নির্বাচন করছেন তিনি। জগন্নাথপুরের পাটলী ইউনিয়নের বাসিন্দা, তৃণমূল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাও. শাহীনুর পাশা চৌধুরী (সোনালী আঁশ বা পাট)। একই উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও গ্রামের বাসিন্দা, জাতীয় পার্টি (জাপা)’র মনোনীত প্রার্থী তৌফিক আলী মিনার। তিনি যুক্তরাজ্য প্রবাসী। জাপা’র দলীয় প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে নির্বাচন করছেন মিনার। অপর প্রার্থী তালুকদার মো. মকবুল হোসেনের বাড়িও জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের মাইজপুর গ্রামে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)’র মনোনীত প্রার্থী। কাঁঠাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া, এক উপজেলায় তুলনামূলক তিনজন দূর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে এক রকম নির্ভার রয়েছে এ আসনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী, বর্তমান সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তার কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে থাকতে পারেন তৃণমূল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মাও. শাহীনুর পাশা চৌধুরী। জমিয়ত থেকে সদ্য বহিষ্কৃত হয়ে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় অনেকটা সমালোচনার মুখে পড়েছেন মাওলানা পাশা। তাই দুই উপজেলায় জমিয়ত সমর্থিত যে ভোট ব্যাংক তার ছিলো সেটাও নিরঙ্কুশভাবে তিনি পাবেন বলে মনে করছেন না অনেক জমিয়ত নেতা। ভোটের এ হিসাবে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মান্নান-পাশার ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি থাকবে বলে মনে করছেন সচেতন ভোটাররা। এতে অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকার মাঝি মান্নান। তবে, কোনো প্রার্থীকেই খাটো করে দেখছেন না তিনি। নিজেদের নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করতে ও নির্বাচনের দিন ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে প্রার্থীর পক্ষ থেকে কাজ করে যাচ্ছে শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ পরিবার। প্রতিদিনই দুই উপজেলার একাধিক স্থানে উঠান বৈঠক, কর্মী সভা, মিছিল-সমাবেশসহ সব ধরণের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন দলটির নেতা কর্মীরা। শাহীনুর পাশা চৌধুরীও নিজের উপস্থিতি জানান দিতে দুই উপজেলার গ্রামাঞ্চলে চষে বেড়াচ্ছেন।

তবে, গত নির্বাচনগুলোতে যেভাবে জমিয়ত কিংবা বিএনপিপন্থী ভোটার ও  কর্মীসমর্থকদের সহযোগিতা তিনি পেয়েছিলেন সেসব কর্মীসমর্থকেরা এ নির্বাচনে তার  ধারেকাছেও যাচ্ছেন না। বরঞ্চ জমিয়তে থেকে দলের বিরুদ্ধে কাজ করায় ও তৃণমূল বিএনপিতে যোগদান করায় অনেকে তার উপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

অপরদিকে, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী তালুকদার মো. মকবুল হোসেন কাঁঠাল প্রতীক ও জাতীয় পার্টি (জাপা)’র প্রার্থী তৌফিক আলী লাঙ্গল প্রতীক পাওয়ার পর এখনো নির্বাচনী এলাকায় আসতে দেখা যায়নি৷ শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ ভোটাররা না চিনেন এই দুই প্রার্থীকে, না চিনেন তাদের দল ও প্রতীককে। দল, প্রতীক ও নিজেদের পরিচয় করাতে এখনো নির্বাচনী এলাকা শান্তিগঞ্জে পা ফেলেননি দুই প্রার্থী। এলাকায় এসে থাকলেও কারো চোখে পড়ার মতো বড় সভা-সমাবেশ বা মিছিল কিছুই করেননি বা করতে পারেননি তারা।


যারা সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্নে বিভোর, তাদের যদি ভোটাররাই চিনে না তাহলে তারা নির্বাচিত হবেন কীভাবে বা তাদের দ্বারা এলাকার কী উপকার হতে পারে? এমন প্রশ্নই এখন শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুরবাসী।

সাধারণ ভোটাররা জানান, তৌফিক আলী মিনার ও তালুকদার মো. মকবুল হোসেন শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুরে একেবারে নতুন দু’টি মুখ। এর আগে জনগণের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা তাদের ছিলো না। হুট করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একটি বিশাল প্লাটফর্মে প্রার্থী হয়েছেন এ দুই প্রার্থী। যদিও এটি তাদের রাজনৈতিক অধিকার তবু জন সম্পৃক্ত থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া উচিত বলে মনে করেন ভোটাররা।

জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া বাজারে সবজির ব্যবসা করেন মো. আম্বর আলী। তিনি বলেন, এম এ মান্নানের জন্য অনেকেই ভোট চাইতে আসেন। সভা-সমাবেশ হয়। মাও. শাহীনুর পাশা চৌধুরীকেও দেখা যায় গাড়ি দিয়ে ঘুরাঘুরি করেন। কিন্তু অন্য দুইজন প্রার্থী নাকি আছেন নির্বাচনে। তাদের নামও জানি না। তারা কখনো ভোট চাইতেও আসেন না। আমরা তাদেরকে চিনিও না। সবজি ব্যবসায়ী আম্বর আলীর সাথে একমত পোষণ করেন একই ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মতিন।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসনাত হোসেন বলেন, আমরা কোনো প্রার্থীকেই খাটো করে দেখছি না। তাদেরকে সমিহ করেই নির্বাচনী মাঠে কাজ করছি। আওয়ামী লীগ পরিবারের সকলেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী। আমরা আশা করছি যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরে সর্বোচ্চ ভোট ব্যবধানে এম এ মান্নান স্যার জয় লাভ করবেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত