২০ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:১৩
রাত তখন ১০টা বাজে। তীব্র শীতের সাথে হিম বাতাস। এই সময় পরনে অপরিচ্ছন্ন পোশাক আর খালি পায়ে ভ্যান চালিয়ে যাচ্ছিলেন শফিক মিয়া (ছদ্মনাম)। এই শীতে শরীর উষ্ণ রাখার মতো গরম কাপড় নেই দিনমজুর শফিকের। আচমকা তার পথ আগলে দাঁড়িয়েছে দুটি সরকারি গাড়ি। এতে দিনমজুর শফিক হতভম্ব হয়ে যান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়ি থেকে নেমে শফিকের শরীরে একটি কম্বল জড়িয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সাথে সাথে হাসি ফুটে ওঠে শফিকের মুখে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর শহরের উত্তর চৌমুহনী এলাকার দৃশ্য এটি।
ওই রাতে বিভিন্ন বাজার ঘুরে ঘুরে দিনমজুর, দলিত সম্প্রদায় ও ছিন্নমূল অসহায় মানুষ খুঁজে খুঁজে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়।
কম্বল পেয়ে খুশি শফিক মিয়া। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। যা রুজি করি কোনো মতে সংসার চালাই। কমল (কম্বল) কিনার টাকা নাই। না চাইতেই স্যারেরা আমারে একটা কম্বল দিছইন (দিয়েছেন)। খুব খুশি অইছি।’
বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এতে নিম্ন আয়ের লোকজন সবচেয়ে দুর্ভোগে আছেন। এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে বড়লেখায় ৫৭২০টি কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এগুলো ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। এরমধ্য থেকে কিছু কম্বল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী, দিনমজুর, দলিত সম্প্রদায় ও ছিন্নমূল অসহায় মানুষের হাতে সরাসারি পৌঁছে দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে বড়লেখা পৌর শহর, দাসেরবাজার, চান্দগ্রামসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিম্ন আয়ের ২৫জন মানুষকে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজরাতুন নাঈম। রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে।
কম্বল বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে বড়লেখার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর হোসাইন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উবায়েদ উল্লাহ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজরাতুন নাঈম বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া কম্বল আমরা ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে বিতরণ করিয়েছি। পাশাপাশি রাতেরবেলা দিনমজুর, দলিত সম্প্রদায় ও ছিন্নমূল অসহায় মানুষ খুঁজে খুঁজে আমরা শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল দিয়েছি।’
আপনার মন্তব্য