২৬ জানুয়ারি, ২০২৪ ০৯:২২
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুনামগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারা প্রার্থী হচ্ছে আর কে-ই বা আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা পাচ্ছেন এনিয়েই এখন আলোচনা চলছে।
এবারও জাতীয় নির্বাচনের মত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি না আসলে কী করবে আওয়ামী লীগ, এনিয়ে আলোচনা কম নয়। ইতিমধ্যে অনেকের নেতা কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকে প্রার্থীদের নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারগণ করছেন নানান হিসাব।
সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলায় মধ্যে তাহিরপুর উপজেলা সারা বছরেই জলমহাল, নদী, চোরাচালানসহ নানান কারণেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। আর জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচন আসলেই পাল্টে যায় ভোটারদের চিরচেনা দৃশ্য। আসন্ন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতি বছরের মত এবারও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে কারা প্রার্থী হতে যাচ্ছে এ নিয়ে আলোচনা সর্বমহলে। এবারও কি বিএনপি নির্বাচন বর্জন করবে, আর আওয়ামী লীগ কি এবারও তাদের দলীয় প্রতীক নৌকা রাখবে এনিয়েও আলোচনার যেন শেষ হচ্ছে না!
নির্বাচনে অনেকেই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। গতবার যারা দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করেছিলেন তারা এবারও চাইবেন দলীয় প্রতীক নৌকা।
তাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল। তিনি গত নির্বাচনে উপজেলা ও জেলা থেকেও তার নাম কেন্দ্রে পাঠানো না হলেও নিষ্ঠাবান, নিরহংকারী, জনপ্রিয় আওয়ামী লীগের একনিষ্ট নেতা হিসাবে যার সমগ্র জেলায় পরিচিত রয়েছে। রয়েছে একজন ভাল মানুষ হিসাবে সর্বমহলে জনপ্রিয়তা। সেই গুণের কারণে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক তিনি পান এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিতও হন। এরপর তিনি গত ৫ বছর এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। নিজ গুণে ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান সাহেবের সহযোগিতায় এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ফলে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
নির্বাচন করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি জনগণের ভালবাসা নিয়ে চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ উন্নয়ন করতে, কোনো কার্পণ্য করিনি, কারো প্রতি জুলুম করিনি, অন্যায়ও করিনি, সব সময় জনগণের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। তবে আমি নির্বাচন করতে ইচ্ছুক না আর নির্বাচন করবও না এটা নিশ্চিত। কিন্তু তার নেতাকর্মী ও সমর্থকগণ চাইছেন তিনি আবারও নির্বাচন করবেন আর এলাকার স্বার্থে শেখ হাসিনা নেতৃত্ব সারাদেশের ন্যায় এই উপজেলায় উন্নয়ন করবেন।
এছাড়াও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহী সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসাইন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। এছাড়াও সজ্জন এবং সমাজসেবক হিসাবে তার উপজেলা জুড়েই জনপ্রিয়তা রয়েছে। তার রয়েছে নেতা র্মীর বিশাল বাহিনী, যার জন্য তিনি বিপুল ভোট বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। তিনি এবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। এবং নৌকা প্রতীক পাবেন বলে আশাবাদী।
সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব খন্দকার মঞ্জুর আহমেদ। তিনি একজন ব্যবসায়ী, সমাজসেবক হিসাবে এলাকায় পারিবারিক ভাবে ব্যাপক পরিচিতির পাশাপাশি রয়েছে জনপ্রিয়তা। তিনি এবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। আর নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী তিনি।
অপরদিকে নির্বাচন করতে আগ্রহী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খাঁ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে জেল খেটেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গেল নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা চেয়েছিলেন কিন্তু পাননি। তিনি এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ও নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চান।
এছাড়াও নির্বাচন করতে আগ্রহী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছেন। রয়েছে তার দীর্ঘ রাজনীতি জীবনের নেতাকর্মী ও সমর্থকগণ।
পারিবারিক ভাবে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আপ্তাব উদ্দিনের রয়েছে উপজেলাজুড়ে পরিচিতি। তার বাবা মরহুম জয়নাল আবেদিন বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন দানশীল ও সমাজসেবক, আফতাব উদ্দিনের বড় বোন জেলা পরিষদের সদস্য। এছাড়াও পারিবারিক ভাবে ঐতিহ্য রয়েছে। সে হিসেবে তারও জনপ্রিয়তা রয়েছে।
ভোটারগণ বলছেন, জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বনান আওয়ামী লীগ নির্বাচন হয়েছে। অন্য কোনো দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ভোট কেন্দ্রে যায়নি বেশির ভাগ মানুষ। নির্বাচন হয়েছে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ। বিএনপি নির্বাচনে না আসলে নির্বাচন নিরুত্তাপ ও উৎসব মুখর পরিবেশে হবে না।
আপনার মন্তব্য