নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ জুন, ২০২৪ ২৩:৪২

পানি নামছে ধীরে, দুর্ভোগ বাড়ছে

সিলেটে তিন দিন ধরে প্রখর রোদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। তবে বন্যার পানি কমছে ধীরগতিতে। রোববার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার ৬টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, হাওরসহ সিলেটের নিচু এলাকা এখনো পানিতে পরিপূর্ণ। অন্যদিকে মৌলভীবাজারের জুড়ী ও মনু নদের পানি সিলেটের কুশিয়ারা নদীতে যুক্ত হচ্ছে। তাই বৃষ্টি কমলেও কুশিয়ারা নদীর পানি নামছে ধীরগতিতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের উপশহর, তেরোরতন, সোবহানীঘাট, টুকেরবাজারসহ কিছু এলাকা ছাড়া সব কটি এলাকা থেকেই পানি নেমে গেছে। তবে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় কালো রং ধারণ করে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। উপজেলাগুলোয় পানি কমতে শুরু করায় পানিবাহিত রোগব্যাধি বাড়ছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার বেলা একটা পর্যন্ত সিলেট নগর ও ১৩টি উপজেলায় ১ হাজার ৪৪৯টি গ্রাম প্লাবিত ছিল। বন্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ। ৩১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো ১৯ হাজার ৭৩৮ জন মানুষ আছেন।


সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার অনেক গ্রামের বাসিন্দা এখনো পানিবন্দী রয়েছেন।


দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি কমায় বন্যার ক্ষতগুলো দৃশ্যমান হয়েছে। সিলেট-গোয়াইনঘাট সড়কের গোয়াইনঘাট উপজেলার সালুটিকর এলাকায় ভাঙাচোরা সড়কে ভোগান্তি নিয়ে চলছে যানবাহন। বন্যায় দামরি হাওরের পানি উপচে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়ক থেকে পানি নেমে গেলেও ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে মানুষকে কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। বন্যার পানিতে তোয়াকুল বাজার, নোয়াগাঁও এলাকার সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া তোয়াকুল ইউনিয়নের পেকেরখাল এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে এখনো বন্যার পানি বইতে দেখা গেছে।

সালুটিকর সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আগে পানির লাগি গাড়ি চালাইতে পারছি না। আর এখন ভাঙা রাস্তার লাগি গাড়ি চালাইতে পাররাম না।’ গোয়াইনঘাটের কদমতলা গ্রামের সোহেল আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা পানিত ভাসি, পানি কমলে ভাঙা রাস্তাত ভোগান্তিত পড়ি।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত