শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি

২৪ জুন, ২০২৪ ০০:০৩

সিচনী গ্রামে হত্যাকাণ্ড: ইউপি চেয়ারম্যানসহ সব অভিযুক্ত এলাকাছাড়া

আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুফি মিয়ার দুই ছেলের হামলায় নোমান মাহমুদ (রোমান মিয়া) নিহতের ঘটনায় ইতোমধ্যে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ৷ বাকী অভিযুক্তদের ধরতে সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে তারা। এতে ঘটনাস্থল ও সিচনী গ্রামে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়াতে চেয়ারম্যান সুফি মিয়া পক্ষের সব পুরুষ গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন।

এ সুযোগে নিহত নোমান মাহমুদ পক্ষের লোকজন কর্তৃক বাড়ি ভাঙচুর, গরু ও ধান লুটপাট এবং মহিলাদেরকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ করেছেন সুফি মিয়া পক্ষের লোকজন। তবে এ ধরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রামের একাধিক প্রবীণও জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পর এ ধরণের কোনো ঘটনা সিচনী গ্রামে ঘটেনি।

রোববার দুপুরে সিচনী গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, নিহত নোমান মাহমুদ রুমান পক্ষের লোকজন ও তৃতীয় পক্ষের লোকজন গ্রামে চলাফেরা করছেন তবে গ্রেপ্তার এড়াতে সুফি মিয়া পক্ষের কোনো পুরুষই বাড়িতে নেই। সব বাড়িতেই নারী-শিশু রয়েছেন।

নারীরা জানান, হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটেছে তা তারা জানেন না। তবে এ ঘটনার পর তাদের কোনো পুরুষ গ্রামে নেই। নিরাপদে সরে গিয়েছেন। এ সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়ির নারীদের উত্যক্ত করছে। বাড়ি থেকে ধান ও গরু নিয়ে নিচ্ছে। মো. আলী নূরের বাড়ি ভাঙচুর করেছে। লুটপাট করছে। বাড়ির সামনে এসে গালাগালি করছে।

ইউপি চেয়ারম্যান সুফি মিয়ার স্ত্রী মোছা. রুমানা আক্তার ও আবদুর রহমানের স্ত্রী খইরুন নেছা বলেন, শনিবার দুপুরে নিহত মো.নোমান মাহমুদ (রুমান)-এন পক্ষের ৩০/৪০ জন লোক আমাদের বাড়িতে এসে গালিগালাজ করছে এবং ভয়ভীতি দেখিয়েছে। তারা সিচনী পয়েন্টে আমাদের ৩টি বড় ট্রাক্টর , একটি সিএনজি ও একটি পিকআপ গাড়ি ভাংচুর করেছে। আমাদের গোয়াল ঘর থেকে ২০টি গরু, আমাদের গোষ্ঠির আলী নূর ও আনোয়ারের ঘর থেকে ৪টি গরু নিয়ে গেছে। আলী নুরের বসত ঘরের কাঁচের জানালা ভাংচুর ও বসত ঘর তছনছ করেছে, আবদুর রহমানের টমটম গাড়ি ভাংচুর করেছে, রেজাউলের বাড়িও লুটপাট করেছে।

সিচনী গ্রামের নিহত নোমান মাহমুদ ওরফে রুমান মিয়ার পক্ষের লোক আমিরুল ইসলাম ও কাপ্তান মিয়া বলেন, সুফি মিয়া ও তার লোকজন পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে গেলেও তাদের আত্মীয় স্বজনরা গরু, মুল্যবান সম্পদ নৌকা যোগে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে গেছেন। আমাদের লোকজন তাদের কারো বাড়িতে কোন লুটপাট করেননি। তাদের সম্পদ তারাই নিরাপদ জায়গায় নিয়ে গেছে। বিষয়টি আমরা গ্রামে দায়ীত্বরত পুলিশ অফিসারদেরকে দেখিয়েছি। যাতে আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষরা অভিযোগ না তুলতে পারে।

সিচনী গ্রামের তৃতীয়পক্ষ ও শালিস ব্যক্তি ফজল মিয়া বলেন, মো.নোমান মাহমুদ খুন হওয়ার পর সুফি চেয়ারম্যানের লোকজন বসত বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাদের বাড়ি ঘরে কোন লুটপাট হতে আমরা দেখিনি।

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজি মোক্তাদির হোসেন বলেন, হত্যাকান্ডের পরপরই ঘটনাস্থল ও সিচনী গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২ জনকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।  সিচনী গ্রামে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের মতো কোন ধরণের ঘটনা ঘটার কোন সংবাদ পাওয়া যায় নাই। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করেছেন। এখনো মামলা দায়ের হয়নি। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত