০৬ জুলাই, ২০২৪ ১৫:৪৭
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের উমনপুর এলাকায় গত (১৩ জুন) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড এর কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন নিহত হন। এই নিহতের ঘটনার জের ধরে প্রতিপক্ষের (ড্রাইভার) বসতবাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করার পার তাদের বসত ঘর পুড়িয়ে দেয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মঈনুল হোসেনের আত্মীয়স্বজন সহ গ্রামের মুরব্বিরা।
এতে সিদ্দেক আলী, মরম আলী ও তাহির আলী পরিবারের শিশু, নারী-পুরুষ সহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলায় দু'টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, ৩টি বসতঘর ভাংচুর করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুলাই) বাদ জুম্মা উমনপুর গ্রামে এই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
জানা গেছে, গত (১৩ জুন) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন হয়েছেন। নিহতের ঘটনার সম্প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এই হত্যা মামলায় একই গ্রামের সিদ্দেক আলী, মরম আলী ও তাহির আলী গং পরিবারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা উমনপুর গ্রামের জামে মসজিদে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং ঘটনায় বিষয়ে গ্রাম্য বৈঠকে বসে আলোচনা করা হয়।
পরে গ্রাম্য মুরব্বিয়ান অভিযুক্ত সিদ্দেক আলী, মরম আলী ও তাহির আলী গং কে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসার জন্য ডাকেন। সেই বৈঠকে টাকা যোগাড় করতে না পারায় তাহির আলী গ্রামের সালিশ বৈঠকে না যাওয়ায় গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে নিহত মঈনুল হোসেন পরিবারের পক্ষে গ্রামের কিছু মুরব্বিদের কথায় উত্তেজিত জনতা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে অভিযুক্ত একই গ্রামের সিদ্দেক আলী, মরম আলী, তাহির আলী- গং পরিবারের বসতবাড়িতে দলবেঁধে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়।
এই ঘটনায় ৩ বছরের শিশু রিহান আহমেদ পিতা মনজুর আহমেদ এবং একই পরিবারের নারী-পুরুষ সহ অন্তত ১৫জন গুরুত্বর আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মরম আলী (৭০), জুহরা বেগম (৬৫), পারভিন বেগম (৪০), আলবেলা বেগম (৩৮), ফাহিমা বেগম (৩৮), হাসিনা বেগম (৪৫), কুলছুমা বেগম (৪০), তানজিনা বেগম (১২), মারজানা বেগম (১৯), আবিদা বেগম (০৪), রীয়ান আহমদ (১.৫০), সোহাগ আহমদ (০৭), হাম্মাদ (১৭), সাকিব হাসান (১৪), সাইদ আহমদ (১৫)।
হঠাৎ করে গ্রামের কিছু লোক প্রতিপক্ষের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাংচুর ও হামলায় পরিবারের নারী-পুরুষ শিশুরা আতংকিত হয়ে পড়েন। অনেক মহিলা শিশু আত্ম চিৎকার করে প্রাণ ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটাছুটি করেন।
জৈন্তাপুর মডেল থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এবং আশপাশ গ্রামের লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
ঘটনার খবর পেয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, ভাইস-চেয়ারম্যান সাহাদ উদ্দিন (সাদ্দাম), জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম (পিপিএম), স্থানীয় চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিক আহমদ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ হামলার শিকার হওয়া সিদ্দেক আলী, মরম আলী, তাহির আলী গং পরিবারের বসতবাড়ি পরিদর্শন করতে যান।
আহতরা সিলেট, জৈন্তাপুর সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো তাজুল ইসলাম বলেন, বসতবাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য