নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ আগস্ট, ২০২৪ ২২:১৪

সিলেটে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আ. লীগ নেতাদের বাসায় আগুন-ভাঙচুর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সিলেটের আন্দোলনকারীরা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, পুলিশ সুপারের বাসভবন সহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে।

এছাড়া মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ অনেক আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধির বাসায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, সোমবার (৫ আগস্ট) বেলা তিনটার দিকে নগরের বন্দরবাজার এলাকায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। এরপর পাশেই জেলা প্রশাসক কার্যালয়, জেলা পরিষদ ভবনে ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা।

একই সময়ে আরেকটি দল নগরের কিন ব্রিজ এলাকায় পুলিশ সুপারের বাসায় আগুন দেয়। দূর থেকেও সেখানকার আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে। তবে গণমাধ্যম কর্মীরা কাছাকাছি যেতে পারছেন না।

এছাড়া কতোয়ালি থানা, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজারসহ বিভিন্ন থানা, লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলা করা হয়েছে নগরের শাপলাবাগ এলাকায় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী ও গোপালটিলা এলাকায় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য রনজিত সরকারের বাসায়।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মী বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর প্রচারিত হওয়ার পরপরই মিছিল নিয়ে একদল মানুষ নগরের শাপলাবাগ এলাকায় প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীর বাসভবন ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পৃথকভাবে আরও কয়েকটি দল নগরের পূর্ব শাপলাবাগ এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, গোপালটিলা এলাকায় অবস্থিত সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনের আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) রণজিত চন্দ্র সরকার এবং সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সহসভাপতি আসাদ উদ্দিনের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায়।

এ ছাড়া নগরে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত অনেক ব্যবসায়ীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মাহাতে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ তার বাসায় ভাঙচুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নগরের ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ এবং ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর লায়েক আহমদ, উপশহরের সাবেক কাউন্সিলর সালেহ আহমদ সেলিমের বাসায় হামলা করা হয়েছে।

হামলা চালিয়ে লুটপাট করা হয়েছে নগরের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও।

এসব হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে পুরো নগরজুড়েই আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরমধ্যে নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় বিজয় মিছিল করছে অনেকে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত