০৩ মার্চ, ২০২৬ ০০:৪৩
ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন মৌলভীবাজারের আহমদ আলী। ছবি: সংগৃহীত
ইফতারের পরপরই ফোনে আসে এক গ্রাহকের পানির অর্ডার। রোজার দিনের ক্লান্তি ভুলে নিজস্ব পানির ট্যাংকার গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন আহমদ আলী (৫৫), যিনি এলাকায় ছালেহ আহমদ নামেই পরিচিত। গন্তব্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরের একটি বাসা। কিন্তু গ্রাহকের দরজায় পৌঁছানোর আগেই ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তার গাড়িতে আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে আজমানের শেখ খলিফা মেডিক্যাল সিটিতেতে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আহমদ আলী মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের বাসিন্দা। তিন ভাই ও আট বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। গত বছর দেশে এসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তিন মাস আগে আবার কর্মস্থলে ফিরে যান।
তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। বড় ছেলে আব্দুল হক কিছুদিন বাবার সঙ্গে আজমানে অবস্থান করলেও গত জানুয়ারিতে দেশে ফিরে আসেন।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী-সন্তানরা। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন তাদের সান্ত্বনা দিতে।
আলীর পরিবার বলছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রথমে পরিবারের কাছে ‘বোমা হামলায়’ মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। খবরটি নিশ্চিত হতে সময় লাগে। আহমদ আলীর ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদ আজমানে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে পরদিন কফিলের মাধ্যমে মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত হন। তবে তারা ভাইকে শেষবারের মতো দেখতে পারেননি।
ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ভাইদের কাছে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়েছিলেন আহমদ আলী। সেখানে তিনি বলেন, “রাত ১০টার দিকে কথা বলব।” কিন্তু সেই আলাপ আর হয়নি। রাত ১০টার আগেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিভে যায় তার জীবনপ্রদীপ।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ ফোনালাপ হয়। পরদিন শনিবার পরিবার পায় মৃত্যুর চূড়ান্ত খবর।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
আপনার মন্তব্য