নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৪৫

তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি হওয়ার ১৯ বছর দক্ষিণ সুরমার উন্নয়ন হয়নি: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সিলেট-৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ সুরমা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তিনি বলেন, “এলাকাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি হওয়ার কারণে গত ১৯ বছর এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, খেলার মাঠ, খাল-বিল—সবখানেই চরম অবহেলার চিত্র দেখা গেছে।”

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সিলামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর রিয়ার এডমিরাল মরহুম মাহবুব আলী খানের বাড়ী পরিদর্শন ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালিক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সংসদ হুইপ জিকে গউস, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বয়ক কামালউদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এলাকায় ঘুরে অবকাঠামোগত দুরবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “একসঙ্গে সব উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব নয়। তবে জরুরি ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো দ্রুত শুরু করা হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ সুরমাকে অবহেলার গ্লানি থেকে বের করে আনা এবং টেকসই উন্নয়নের আওতায় নিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

মীর শাহে আলম এম.পি.-এর দক্ষিণ সুরমা পরিদর্শনকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় বক্তব্য দেন এম এ মালিক। তিনি বলেন, দক্ষিণ সুরমা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল এবং অবকাঠামোসহ মৌলিক খাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এম এ মালিক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী পূর্বে সিলেট সফরকালে বিভিন্ন উন্নয়ন ঘোষণা দিয়েছেন এবং জেলার ১৮টি আসনে সমর্থনের মাধ্যমে জনগণ সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। তবে দক্ষিণ সুরমার বেশ কিছু এলাকা গত প্রায় ১৯ বছর ধরে অবহেলিত ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি প্রতিমন্ত্রীর কাছে শিক্ষা, চিকিৎসা ও হাসপাতাল সুবিধা সম্প্রসারণ, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কালভার্ট, ব্রিজ ও ফেরিঘাট নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি তুলে ধরেন। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজে সরেজমিনে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন এবং আবেদন পেলে সরকার তা বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন বলে জানান এম এ মালিক এম.পি।

পরিদর্শনকালে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত ও ধন্যবাদ জানানো হয়। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণ সুরমার উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন গতি পাবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত