সিলেটুডে ডেস্ক

০৭ মার্চ, ২০২৬ ১৪:৪৫

শ্রীমঙ্গল মামলার ১৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি চুরির মালামাল

ছবি: সংগৃহীত

চুরির ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি প্রায় ৩২ লাখ টাকার নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার। এতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের গুহরোড এলাকার
ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়রা মধ্যে হতাশাগ্রস্থ। দ্রুত চোর শনাক্ত ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী পরিবানর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদর্শন শীল পরিবারসহ কুলাউড়ায় শ্বশুরবাড়িতে যান। পরে ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাসায় ফিরে তিনি ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। ঘরে প্রবেশ করে দেখা যায় আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা। ওয়ারড্রোবে রাখা প্রায় দুই লাখ টাকা এবং আলমারি ও ওয়ারড্রবে সংরক্ষিত বিয়ের প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে বলে জানান তারা। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩২ লাখ টাকা।

জানা যায়, বাসার পেছনের গ্রিল কেটে বুধবার বা বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে এ চুরির ঘটনা ঘটায়। ঘটনার দিনই থানায় অভিযোগ দেওয়া হয় এবং পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।

ভুক্তভোগী সুদর্শন শীল বলেন, 'আমাদের প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। মামলার ১৫ দিন পার হলেও এখনো কিছু উদ্ধার হয়নি। পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করলে মালামাল উদ্ধার হবে বলে আশা করছি।'

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। তারা রাতে পুলিশের টহল বাড়ানো এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। অনেকের ধারণা, সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এ চুরি সংঘটিত করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সজীব চৌধুরী বলেন, 'সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুইজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলের সড়কে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করলেও চুরির বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।'

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, 'ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাসায় কোনো তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়নি। তবে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।'

তবে এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার বা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত