নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৩৮

আক্রান্তের দাবি ‘ছিনতাই’, পুলিশ বলছে ‘মিথ্যা অভিযোগ’

শনিবার ভোরে সিলেটের টুকের বাজারের তেমুখী এলাকায় আক্রান্ত হন রায়হান আহমদ। হামলায় আহত হয়ে বর্তমানে তিনি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

পেশায় সাংবাদিক রায়হানের অভিযোগ, সিএনজি অটোরিকশায় আসা ৩ ছিনতাইকারী তাকে মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তাদের মারধরেই আহত হন বলেই অভিযোগ রায়হানের।

তবে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, তেমুখীর ঘটনাটি ছিনতাই সংক্রান্ত নয়। সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে হামলায় আহত হন রায়হান।

এরআগে গত ৩১ মার্চ রাতে নগরের তালতলায় আরেকটি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, ৩ টি মোটর সাইকেলে আসা ৬/৭ যুবক একটি অটৈারিকশার গতি রোধ করে। এসময় অটোরিকশার যাত্রীদের সাথে মোটর সাইকেলে আসা যুবকদের হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে পথচারী আরেক তরুণকে দৌড়ে ধরে ব্যাপক মারধর করে মোটর সাইকেলে আসা ওই ব্যক্তিরা।

মারধরে আহত ওই তরুণের নাম দুর্জয় অধিকারী (২২)। দুর্জয়ের অভিযোগ, তাকে মারধর করে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্জয়ের অভিযোগের বরাত দিয়ে পরে গণমাধ্যমে এই ঘটনাকে ‘ছিনতাই’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

তবে পুলিশ বলছে, এটিও ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়, বরং পূর্ব বিরোধের ঘটনা নিয়ে এমনটি ঘটেছে।

এ নিয়ে শনিবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের ফেসবুক পেজে ‘ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ প্রসঙ্গে’ শিরনোমে একটি পোস্ট করা হয়।

এতে বলা হয়- ‘ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ব্যক্তিগত বিরোধের ফলে মারামারি বা অন্যান্য বিষয়ে সংগঠিত একাধিক ঘটনাকে মিডিয়াতে ছিনতাই হিসেবে নিউজ করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।’

উদাহরণ হিসেবে তালতলা ও তেমুখীর ঘটনা দুটির কথা উল্লেখ করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সচেতন থাকতে অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে মিডিয়াতে ছিনতাই সংক্রান্ত নিউজ যাচাই-বাছাই করে প্রচারের অনুরোধ জানিয়ে ‘অন্যথায়, এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’ বলেও হুমকী দেওয়া হয়।

পুলিশের এমন দাবি প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রায়হান উদ্দিন ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে আবারও দাবি করেন। তিনি বলেন, নিজেদের দোষ আড়াল করার জন্য সিএনজি চালকরা পুলিশকে মিথ্যে তথ্য দিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সঠিক ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, আমি রক্তাক্ত জখম, আমার মাথায় ও নাকে আঘাত করা হয়েছে। রক্তমাখা টিশার্ট জালালাবাদ থানার ওসি সাহেব নিয়ে গেছেন। ছিনতাইয়ের ঘটনা আড়াল করতে তারা চলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। শনিবারও নগরের আম্বরখানা এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক কলেজ শিক্ষক। এছাড়া নগরের আলোচিত কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় নগরজুড়ে সমালেঅচনা ও আতঙ্ক রয়েছে। এসব ঘটনার সিসিটিঠি ফুটেজ ভাইরাল হলেও বেশিরভাগ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।


এনিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ রয়েছে। ফলে ফেসবুকে পুলিশের এমন স্ট্যাটাসের নিচে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন।

সাংবাদিক আহমেদ শাহিন লিখেছেন - সিলেটে যদি কোনো ঘটনা সিসি ক্যামেরায় ধরা না পড়ে, তাহলে কি সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছিনতাই না? তাহলে তো বোঝা যায় ক্যামেরায় না থাকলে অপরাধই না! সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ছিনতাই দমনে কাজ করছে, সেটা ঠিক। কিন্তু সব অপরাধ তো ক্যামেরার সামনে ঘটে না। তাই যাচাই জরুরি, তবে বাস্তবতাও অস্বীকার করা ঠিক না।’

আজাদ নামে আরেকজন লিখেছেন- ‘যদি মেনেও নিই যে ছিনতাই নয়, ব্যক্তিগত বিরোধে মারামারি, তাহলেও প্রশ্ন জাগে- ব্যক্তিগত বিরোধে মারামারি ও ছুরিকাঘাত কি ক্রাইম নয়? যেকোনো ক্রাইম প্রতিরোধ করা কি পুলিশের কাজ নয়? নাকি ব্যক্তিগত বিরোধে মারামারি বলে চালিয়ে দিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার নিয়ম আছে?’

তিনি আরও লিখেন- ‘সাম্প্রতিক ছিনতাইর ঘটনাগুলোর আপডেট কী? হাউজিং এস্টেটের আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনার আসামীদের কি পুলিশ ধরতে পেরেছিল? সাগরদিঘির পারের ঘটনা? গতকালে আম্বরখানার ঘটনা? কেন পারেনি? সেটা স্পষ্ট না করে দায় এড়ানোর চেষ্টা পুলিশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করবে।’

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম রোববার সিলেটটুডেকে বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, তালতলা ও তেমুখীর ঘটনা দুটি ছিনতাই সংক্রান্ত নয়।

ছিনতাই না হলেও হামলার সাথে জড়িতদের আটক করা হয়েছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আক্রান্তরা এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেননি। আর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে বা অভিযুক্তদের ধরতে হলে ভালো করে খোঁজ খবর নিয়ে করতে হয়। পুলিশ এসব ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

নগরে ছিনতাইয়ের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। অনেক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত