১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:২৭
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে প্রায় দুইশ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে এখন উৎসবের সাজ সাজ রব। দুই দিনব্যাপী এই বর্ণিল উৎসব শেষ হবে ১৫ এপ্রিল (বুধবার)।
প্রতি বছরের মতো এবারও চৈত্র সংক্রান্তির পবিত্র তিথিতে এই পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত থেকেই। আজ রাতে কালীপূজা এবং জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে তান্ত্রিক ও ভক্তদের ‘শিবকালী নৃত্যথ পরিবেশিত হবে। ৪০ থেকে ৫০ জন পূজারী সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষিত হয়ে ১০-১২ দিন আগে থেকেই কঠোর পবিত্রতার সাথে ব্রত পালন করছেন। তারা সারাদিন উপবাস থেকে গ্রামগঞ্জে শিব-গৌরী সেজে গান ও নৃত্যের মাধ্যমে ভিক্ষা করে আসছেন। জ্বলন্ত আগুনের ওপর ‘কালীনাচ এবং তান্ত্রিক মন্ত্রের মাধ্যমে সাতটি ধারালো দায়ের ওপর ‘শিব শয্যাথ এই পূজার অন্যতম শিহরণজাগানিয়া আকর্ষণ। দিঘীর পূর্ব, উত্তর এবং দক্ষিণ পাড়ে মোট ৪টি চড়ক গাছ স্থাপন করা হয়েছে। ভক্তরা সেখানে ফুল, দুধ ও চিনি দিয়ে শ্রদ্ধা ও পূজা নিবেদন করবেন।
সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব দেখতে প্রতি বছরই দেশ-বিদেশের হাজার হাজার দর্শনার্থী কমলগঞ্জে ভিড় করেন। পূজা উপলক্ষে দিঘীর পাড়ে বিশাল গ্রামীণ মেলা বসবে, যেখানে লোকজ পণ্য, মাটির তৈরি তৈজসপত্র এবং রকমারি জিনিসের পসরা সাজাবেন ব্যবসায়ীরা।
কমলগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ বলেন, "ছয়চিরি দিঘীর পাড়ের চড়ক পূজা সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় আয়োজন গুলোর একটি। এখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের যে ঢল নামে, তা আমাদের আবহমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।
চড়ক পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অরুন প্রসাদ রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আসাদুজ্জামান এবং কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আউয়াল জানান, মেলাটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য