রায়হান উদ্দিন সুমন, বানিয়াচং

১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৫০

বানিয়াচংয়ে কালী মন্দিরে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুট

বানিয়াচং উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন কালী মন্দিরে গভীর রাতে দুুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল মন্দিরের পাহারাদারের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে প্রতিমার শরীর থেকে স্বর্ণালঙ্কার, দানবাক্সের নগদ অর্থ এবং পূজার মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৩এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে ৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল মন্দিরের পেছনের প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা শুরুতেই মন্দিরের পাহারাদারকে আক্রমণ করে তার হাত-পা বেঁধে মন্দিরের বারান্দায় ফেলে রাখে। এরপর তারা মন্দিরের প্রধান ফটকের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং মূল মন্দিরে ঢুকে প্রতিমার গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাধব দেব জানান, ডাকাতরা প্রতিমার গলার স্বর্ণের হার, কানের দুল, হাতের বাল, কপালের টিপহ মালামাল নিয়ে গেছে। এছাড়া আসবাবপত্র ও পূজার সামগ্রী নিয়ে চম্পট দেয় তারা। সব মিলিয়ে লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। মন্দিরে সিসি ক্যামেরা ছিল। ডাকাতরা ডাকাতির পূর্বে সেটার লাইন কেটে দেয়। এ ঘটনার কমিটির পক্ষ থেকে থানায় জিডি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ডাকাতির খবর পেয়ে সকালে মন্দিরে ভিড় জমান স্থানীয় সনাতন ধর্মের বাসিন্দারা। ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ ধরনের জঘন্য ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পাহারাদারকে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখার দৃশ্য দেখে আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে মন্দির এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদের স্থানীয় নেতৃবৃৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তারা আরো জানান, উপাসনালয়ে চুরি বা ডাকাতি কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল। স্থানীয় প্র্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। অপরাধীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রদান করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সকালে থানা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। থানা পুলিশের ভারপ্র্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, আমরা খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছি। পাহারাদারের হাত-পা বাঁধা অবস্থা থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ডাকাতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। খুব শীঘ্রই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরো জানান, মন্দিরে থাকা সিসিটিভি ফুটেজগুলো সংগ্র্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত