১২ মে, ২০২৬ ২৩:৪৭
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার জানাউড়া গ্রামে একটি বসতঘরের রান্নাঘরে বিষধর খৈয়া গোখরা সাপ ঢুকে পড়ায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যদের তৎপরতায় সাপটি জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে দিকে উপজেলার জানাউড়া গ্রামের তারেক আহমেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রান্নাঘর পরিষ্কার করার সময় হঠাৎ ফোঁসফোঁস শব্দ শুনতে পান তারা। পরে রান্নাঘরের একটি ইঁদুরের গর্তে ফণা তুলে থাকা বড় আকৃতির একটি সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন। চিৎকার শুনে বাড়ির মালিক তারেক আহমেদ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে কুচা দিয়ে সাপটিকে মারার চেষ্টা করেন। তবে সাপটির ভয়ংকর আচরণ দেখে তিনি আর কাছে যাওয়ার সাহস পাননি। মুহূর্তেই পুরো বাড়িতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয় সাংবাদিক আল আমিন বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানালে, ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
উদ্ধারকারীরা জানান, সাপটি গর্তের ভেতরে লুকিয়ে ছিল এবং এটি একটি অত্যন্ত বিষধর খৈয়া গোখরা সাপ, যা সাধারণত লোকালয়ে খুব কমই দেখা যায়।
প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টার পর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় স্থানীয় উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং শ্বাসরুদ্ধকর সেই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।
পরে উদ্ধার করা সাপটি নিরাপদে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্যপ্রাণী ব্যবস্হাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী মোঃ নাজমুল হক বলেন শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান ইউনিয়নের জানাউড়া গ্রামের একটি বসতবাড়ি থেকে বিষধর খৈয়া গোখরা সাপ উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, উদ্ধারের পর শ্রীমঙ্গলে বন্যপ্রাণী রেঞ্জ অফিসে হস্তান্তর করে।
তিনি আরো বলেন, লোকালয়ে বিষধর সাপ বা বন্যপ্রাণী দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে এবং না মেরে দ্রুত বন বিভাগ বা প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
আপনার মন্তব্য