২৩ মে, ২০২৬ ১৯:১৪
২০২৫ সালে সিলেট বিভাগের প্রতি পাঁচ জন বাসিন্দার মধ্যে একজনের কাছে ব্র্যাকের সেবা পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন (ওয়াশ), জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, অভিবাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ নানাক্ষেত্রে এসব সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বিভাগটিতে কর্মরত ব্র্যাকের ৪ হাজার ৯৫২ জন কর্মী এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করছেন, এদের মধ্যে ৪২ শতাংশই নারী। এই বিভাগে সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৩০০টি কার্যালয় এবং সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের ১৩টি কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
সিলেট বিভাগে ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান সিলেট বিভাগে ব্র্যাকের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা এবং সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেন। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সামাজিক উদ্যোগ-শিক্ষা কর্মসূচির প্রধান নিভিন রেজা।
ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান বলেন, ব্র্যাকের লক্ষ্য মানুষের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষে সাতটি অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করছে ব্র্যাক। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৪৫ মিলিয়ন মানুষের সঙ্গে কাজ করা ব্র্যাক ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে। আগামী ৫ বছরে মধ্যে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দক্ষতা, মানসম্পন্ন শিক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং নারী-যুব ক্ষমতায়নকে অগাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ব্র্যাক মনে করে, টেকসই পরিবর্তন তখনই হবে যখন সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছেও সুযোগ পৌঁছাবে।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরী বলেন, সরকার ও ব্র্যাক এখন একে অপরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে আরও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে দেশে দারিদ্র্য থাকবে না। সিলেটের শাল্লা থেকে ব্র্যাকের জন্ম ছিল, যা নিয়ে সিলেটবাসী গর্বিত। সেই ব্র্যাক এখন বটবৃক্ষ হয়েছে। যার ফল সবাই ভোগ করছে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, ব্র্যাক তাঁর কর্মকান্ডের মাধ্যমে আরও গতিশীল হবে এবং এগিয়ে যাবে, এতে দেশও এগিয়ে যাবে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, সিলেট মহানগর বিএনপি সভাপতি রেজাউল হাসান কায়েস লোদী, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানা, সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামি আমীর ফখরুল ইসলাম, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সিলেট সভাপতি অ্যাডভোকেট শিরীন আখতার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে তাদের বক্তব্য ও মতামত প্রকাশ করেন।
ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয় ২০২৫ সালে সিলেট বিভাগে ১১ হাজার ৯৮৫টি অতি-দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ৯৬৬টি পরিবার সফলভাবে অতিদারিদ্র্য অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে। জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে সহায়তা পেয়েছেন ৫ হাজার ২৮৩ জন।রাজনীতি খবর
মাইক্রোফাইন্যান্স কার্যক্রমের আওতায় ৬ লাখ ২ হাজার ৮০ জন সদস্যের মধ্যে ৯০.০৭ শতাংশ নারী। এ ছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৮৭ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার আওতায় ৪৫ হাজার ৩ জনকে সম্পূর্ণ গর্ভকালীন সেবা (এএনসি) এবং ২৫ হাজার ৯৩৬ জনের নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার আওতায় এসেছেন ৭৩ হাজার ৩৫৬ জন। এ ছাড়া ৯১ হাজার ৮০৯ জনের চক্ষু পরীক্ষা, ২৩৪ জনের ছানি অপারেশন এবং ২০ হাজার ৭৯৭টি চশমা বিতরণ করা হয়েছে।
বার্ষিক প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, যুগোপযোগী শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সিলেট বিভাগে ব্র্যাকের ২৩৮টি প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ হাজার ৯৪৭ জন, যার মধ্যে ৫৫ শতাংশ নারী এবং ৪ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। এ ছাড়া ১২টি স্কুলের ৭ হাজার ৭২৫ শিক্ষার্থীকে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
এ বিভাগে ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন ৪ হাজার ৫২ জন, যার মধ্যে ৪৫ শতাংশ নারী। অভিবাসন কর্মসূচির আওতায় এ বিভাগে পুনর্বাসন সহায়তা পেয়েছেন ৯১০ জন। প্রত্যাবর্তীত অভিবাসীদের মধ্যে উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৪৬৫ জন, যার মধ্যে নারী ৩৭ শতাংশ। একইভাবে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহনশীলতা, নারী ও পুরুষের সমঅধিকারসহ নানা কর্মসূচির তথ্য জানানো হয়।
আপনার মন্তব্য