২৫ মে, ২০২৬ ১৯:৪৬
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি লেবু বাগানে বন্যশুকর প্রতিরোধে পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল সুনীল সাঁওতাল (৩৬) নামে এক শ্রমজীবী ব্যক্তির। ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত জিআই তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সোমবার (২৫ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাধানগর কমিউনিটি ক্লিনিকের পেছনে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত একটি লেবু বাগানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুনীল সাঁওতাল রাধানগর বস্তির মৃত রবিয়া সাঁওতালের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে বাড়ির পাশের আলী আর্জুনের লিজ নেওয়া একটি লেবু বাগানে ঘাস কাটতে যান সুনীল। বাগানটির মালিক শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান জরিপ। ঘাস কাটার একপর্যায়ে বাগানের চারপাশে টানানো জিআই তারের সঙ্গে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, বাগানের ফসল রক্ষা ও পাহাড়ি বন্যশুকর প্রতিরোধে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল।
জানা যায়, সকালে ঘাস কাটতে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা বাগানের ভেতরে একটি ছোট খালের পাশে বিদ্যুতের তারে জড়ানো অবস্থায় সুনীলের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন রায় বলেন, “সকালে সুনীলের স্ত্রী এসে জানান, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে আমি লেবু বাগানে গিয়ে দেখি জিআই তারের সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় তার নিথর দেহ পড়ে আছে। এরপর স্থানীয়দের খবর দিলে পুলিশকে জানানো হয়। নিহতের ছোট ভাই মুনিল সাঁওতাল বলেন, “ঘাস কাটতে যাওয়ার পর অনেক বেলা হলেও ভাই বাড়ি ফেরেনি। পরে খুঁজতে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পাই। তার সাত ও পাঁচ বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে। এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, জিআই তারে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাগানের ফসল রক্ষা ও পাহাড়ি শুকর প্রতিরোধে বিদ্যুতায়িত আর্থিং ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, লেবু বাগানে বিদ্যুতের তার পেতে রাখা হয়েছিল। ওই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম ও তদন্ত চলমান রয়েছে।
আপনার মন্তব্য