২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৩৮
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা শনিবার ৫ম দফায় গণনা করা হয়েছে। এতে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে।
গত জুন থেকে এই মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়। এরপর চার মাসে ৫ দফা গণনায় এই মাজারে জমা পড়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এছাড়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্নালঙ্কার, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া গেছে এই চার মাসে।
দানবাক্সে পাওয়া টাকার পুরোটাই মাজারের নামে খোলা ব্যাংক একাউন্টে রাখা হয়েছে।
সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজারের দীর্ঘদিনের রেওয়া্জ ভেঙে দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নেন। তার উদ্যোগে গত ১৮ জুন মাজারে থাকা পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে মাজারে দান করা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়। এ নিয়ে সিলেটে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর মধ্যে ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। তবে সিলেট ছাড়ার আগে ২২ জুন তাঁর উপস্থিতিতে দানবাক্সের তালা খুলে জনসমক্ষে টাকা গণনা করা হয়।
২২ জুন প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এরপর ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় গণনায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা গননা। চতুর্থ দফার গননায় নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপা পাওয়া যায়।
আর শনিবার (২৪ অক্টোবর) পঞ্চম দফায় পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা। শনিবার দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ১৩.৫০ ওমানি রিয়াল, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৭ কাতারি রিয়াল, ১০০ বাহরাইনি দিনার, ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ২৯ মার্কিন ডলার, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট।
এছাড়া ১১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২০ থাই বাত, ১৫ মালদ্বীপের রুফিয়া, ১০ হংকং ডলার, ১ ব্রুনাই ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল এবং ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি পাওয়া গেছে।
এদিকে স্বর্ণ পাওয়া গেছে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা। রূপা পাওয়া গেছে ৩ ভরি ১৩ আনা। এর আগের চতুর্থ দফার গণনায় স্বর্ণ পাওয়া গিয়েছিল ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি।
এদিকে, ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা এখন থেকে প্রতিদিন গননা করা হবে। দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজের জন্য সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। আর বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভা শেষে সেদিন এসব তথ্য জানান সদস্যসচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন।
জেলা প্রশাসক বলেন, দানের টাকার ৩৫ শতাংশ যে ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে, সেটি জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। টাকা গণনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাজারের পক্ষে একজন ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা অথবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হবেন। এ ছাড়া একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।
মাজার পরিচালনার জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি মাজারের নিরাপত্তা, উন্নয়নসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। জেলা প্রশাসক থাকবেন এই কমিটির আহ্বায়ক।
কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদ ও পুলিশ সুপারের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। মাজারের মোতোয়াল্লি সদস্যসচিব থাকবেন। নিয়োগ দেওয়া ব্যবস্থাপক কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে শনিবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জেলা প্রশাসক বলেন, আজকে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা আগের মতোই ব্যাংক একাউন্টে রাখা হবে। এখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ কিছু ইউটিলিটি বিল দেওয়া হবে। আনসারের বেতন দেওয়া হবে। আমরা ৩ জন লোক নিয়োগ দেবো- ম্যানেজার, একাউনটেন্ট ও কম্পিউটার অপরেটর। তখন টাকার ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় করা হবে।
তিনি বলেন, তাদের নিয়োগের পর প্রতিদিন টাকা গণনা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও মাসখানেক লাগতে পারে। তার আগে আরও একবার আাদের ব্যবস্থাপনায় টাকা গণনা হতে পারে।
টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, উচ্চ পর্যায়ের কমিটি সবার সাথে আলোচনা করেই শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা বন্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ মাজার পরিচালনার অনেক খরচ আছে। অনেক টাকা খরচ হয়। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আপনার মন্তব্য