২১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:১৮
ছবি: সংগৃহীত
আখচাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনার চেক নিয়েছেন রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে এ চেক গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আখচাষিদের প্রণোদনা প্রদান ও জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে ক্লিক করে প্রণোদনার অর্থ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠান।
অনুষ্ঠানে প্রথমেই রাজশাহী সুগার মিলের আখচাষি হিসেবে আবু সাঈদ চানকে চেক গ্রহণের জন্য ডাকা হয়।
সরকারপ্রধান অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখচাষির হাতে চেক তুলে দেন। তারা হলেন—আবু সাঈদ চান এমপি, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।
এদিকে একজন সংসদ সদস্যের আখচাষি হিসেবে প্রণোদনা গ্রহণের ঘটনায় রাজশাহীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও অনেকে একে নজিরবিহীন ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেছেন, ‘আজকে যা ঘটেছে, তা নজিরবিহীন। একজন সংসদ সদস্য কীভাবে আখচাষি হিসেবে প্রণোদনার টাকা পান? এ ঘটনায় দলের পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ তিনি জানালেন, এখন অনেকেই বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করছেন।
তবে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) অ্যাডভোকেট শাহীন শওকত খালেক। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘আবু সাঈদ চান এমপি হলেও পুরাদস্তুর একজন নিবন্ধিত আখচাষি। তাকে এমপি হিসেবে বিবেচনা না করে একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখলে বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তিনি প্রণোদনা পেয়েছেন আখচাষি বা ব্যক্তি আবু সাঈদ চান হিসেবে।’
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংসদ সদস্যের প্রণোদনা গ্রহণের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেছেন, ‘সমাজে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা বা বিশেষ কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা সরকারের প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল বা উচ্চশ্রেণির লোকদের জন্য প্রণোদনার প্রয়োজন হয় না। সেক্ষেত্রে একজন সংসদ সদস্যের প্রণোদনার অর্থ গ্রহণ যথার্থ মনে হয়নি।’
তার মতে, ওই সংসদ সদস্য নিঃসন্দেহে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল নন। কারণ নির্বাচনে তাকে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানীও পেয়ে থাকেন। এখন তিনি নিজেই প্রণোদনা নিলে সেটা অবশ্যই সমালোচনার বিষয়। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছেন তিনি।
মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হয়তো আগে থেকে জানতেন না যে তালিকায় কার কার নাম রয়েছে। জানলে হয়তো তিনি এই সুযোগ দিতেন না। এ ধরনের কার্যক্রমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।’
আপনার মন্তব্য