নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩১

লোকমান আহমদের ‘রুকনিয়াত’ কেন স্থগিত করল জামায়াত, নেপথ্যে কী

সিলেটে জাময়াত ইসলামীর আলোচিত নেতা মাওলানা লোকমান আহমদ। ছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি। জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যানকে গত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন দেয় জামায়াত। তবে শেষসময়ে জোটের সমীকরণে তাকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে হয়।

শেষ মূহূর্তে নানা নাটকীয়তায় মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন সিলেটের পরিবহন মালিকদের একটি সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা লোকমান। আগামী সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও আলোচিত হচ্ছিল তার নাম।

সম্প্রতি আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছেন লোকমান আহমদ। গত কয়েকদিন ধরে তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষত জামায়াত সংশ্লিষ্ট ও দলটির অনুসারীরা লোকমান আহমদকে নিয়ে আলোচনা করছেন।

জানা যায়, সম্প্রতি লোকমান আহমদের ‘রুকনিয়াত’ স্থগিত করে সিলেটের জামায়াত নেতৃত্ব। জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাঠামোতে ‘রুকন’ অর্থ হল পূর্ণাঙ্গ সদস্য। ‘রুকনিয়াত’ দলের সর্বোচ্চ মর্যাদা।

দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর নগরের কুদরতউল্লাহ মার্কেটে জেলা জামায়াত কার্যালয়ে জরুরি কর্মপরিষদ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আমিরের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে মাওলানা লোকমানের রুকনিয়াত সাময়িক স্থগিত করা হয়।

হঠাৎ কী কারণে ছাত্র সংগঠন থেকে ওঠে আসা লোকমান আহমদের ‘রুকনিয়াত’ স্থগিত করল জামায়াত, এনিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ফেসবুকে পদ স্থগিতের নানা কারণ উল্লেখ করছেন বিভিন্নজন। দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ মিছিল করায় দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তার পদ স্থগিত হচ্ছে বলেও দাবি করছেন কেউ কেউ। গত ৭ সেপ্টেম্বর নগরে লোকমান আহমদের আহ্বানে এ মিছিল হয়।

এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবীবুর রহমান রোববার সন্ধ্যায় সিলেটটুডেকে বলেন, এটি তেমন কিছু না। এটি সাংগঠনিক বিষয়। সংগঠনে এসব বিষয় থাকেই। লোকমান আমাদের ঘরেরই ছেলে।

ফেসবুকে অনেকেই লিখে ফেলছে লোকমানের রুকনিয়াত বাতিল হয়েছে এমনটি উল্লেখ করে হাবীবুর রহমান বলেন, সেরকম কিছু না। তার (লোকমান আহমদের) রুকনিয়াত মুলতবি করা হয়েছে। আশা করি সে আবার ফিরে আসবে।

কী অভিযোগে রুকনিয়াত মুলতবি করা হলো এ প্রসঙ্গে হাবীবুর রহমান বলেন, এটা তেমন কিছু না। একটু হয়তো শৃঙ্খলা মানতে অসুবিধা করেছেন।

তবে জামায়াত ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, সিলেটে জামায়াতের একটি প্রভাবশালী বলয়ের বিরাগভাজন হয়েছেন লোকমান। এই বলয়ই তার রুকনিয়াত স্থগিত করতে ভূমিকা রেখেছে।

এই ঘটনায় সিলেটে জামায়াতের নেতৃত্ব পর্যায়ে বিভক্তির বিষয়টিও সামনে এনেছে বলে মনে করছে এই সূত্র।

রোববার ফেসবুকে এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক কবীর আহমদ সুহেল একটি পোস্ট দেন। তার পোস্টেও জামায়াত নেতৃত্বে বিভক্তির ইঙ্গিত।

কবীর আহমদ সুহেল লিখেন, ‘সিলেট জেলা-মহানগর জামায়াতের ক্ষমতার টানাপড়েন, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। সিলেট -১ সংসদীয় আসনে জেলা আমিরের প্রার্থিতা। আবার সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র প্রার্থিতায় মাওলানা লোকমান অপ্রতিদ্বন্দ্বী! মহানগর নেতৃবৃন্দ কি ললিপপ চুষবে? থামিয়ে দাও লোকমান। একটা ইস্যু দরকার। বোকা লোকমান ফাঁদে পা দিলেন। ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় অনিয়ম অবহেলা বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করলেন। মওকা পেয়ে গেলেন কাঙ্খিতজনরা।’

তিনি আরও লিখেন, ‘সিলেট জামায়াতের অন্দরে পঙ্কিলতার পাহাড়। ১৯ আসনে ফলাফল বিপর্যয়। সিসিক মেয়র প্রার্থিতায় হঠকারী সিদ্ধান্ত। মাওলানা লোকমানকে লঘু পাপে গুরু দণ্ড। দায় কার? কেন এসব হচ্ছে? তৃণমূল জনশক্তি কী ভাবছে?’

এ ব্যাপারে মাওলানা লোকমান আহমদের সাথে রোববার দুপুরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি। রাতে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আর সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এ বিষয়ে সরাসরি কিছু না জানিয়ে সিলেটটুডেকে বলেন, এটি একান্তই সাংগঠনিক বিষয়। এ নিয়ে মিডিয়ায় বলার কিছু নেই।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত