২৬ মে, ২০১৬ ২২:৩৩
গত এপ্রিল ও চলতি মে মাসে ৫৪ ধারায় মোট ১১ জনকে আটক করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। মহানগরীর ৬ টি থানা থেকে এদের আটক করা হয়। তবে আটকের পর চলমান বিভিন্ন মামলার আসামী দেখিয়ে এদের আদালতে হাজির করে পুলিশ।
সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ২৩ মে ৫৪ ধারায় গ্রেফতারের ব্যাপারে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপীল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, বিনা পরোয়ানায় ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করার আগে পরিচয়পত্র দেখানোর পাশাপাশি গ্রেফতারের কারণ জানাতে বাধ্য থাকবে পুলিশ। এতে ১৫ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গ্রেফতারের আগে পুলিশকে পরিচয়পত্র ও আটকের কারণ জানাতে হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করেন আপীল বিভাগ।
তবে অনেকক্ষেত্রেই পুলিশ এ নির্দেশনা মেনে চলে না বলে অভিযোগ আইনবিদদের। সন্দেহজনকভাবেও পুলিশ অনেকক্ষেত্রে নীরিহ মানুষকেও গ্রেফতার করে হয়রানি করে বলে দাবি তাদের।
তবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণামাধ্যম) রহমতউল্লাহ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ৫৪ ধারার ব্যাপারে হাইকোর্ট রায় দেওয়ার পর থেকেই আমরা তা মেনে চলতে চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, অনেক মামলায়ই আসামীর নাম উল্লেখ থাকে না, আবার অনেক সময় সন্দেহজনকভাবেও আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক তদন্তে আটককৃত ব্যক্তির অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা বা কোনো মামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে আমরা তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করি।
তিনি বলেন, গত এপ্রিল মাসে ও চলতি মে মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত সিলেট মহানগর এলাকার ছয়টি থানায় ৫৪ ধারায় মোট ১৮ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে এপ্রিল মাসে আটক করা হয় ১১ জনকে ও মে মাসে এখন পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের প্রত্যেককেই চলমান বিভিন্ন মামলার আসামী হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতলে হাজির করা হয় বলেন জানান রহমতউল্লাহ।
এ বিয়ষে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে বলা হয়ছিলো- আটকাদেশ (ডিটেকশন) দেওয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবে না, কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে, গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কারণ জানাতে হবে, বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য স্থান থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নিকট আত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে তার পছন্দ অনুযায়ী আইনজীবী ও আত্মীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে কারাগারের ভেতরে কাচের তৈরি বিশেষ কক্ষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। ওই কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকট আত্মীয় থাকতে পারবেন, জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ওই ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল বোর্ড গঠন করবে। বোর্ড যদি বলে ওই ব্যক্তির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা নেবেন এবং তাকে দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে।
আপনার মন্তব্য