০৮ জুন, ২০১৬ ০১:০৯
পাশাপাশি দুটি চিতা। দুটোতেই আগুন জ্বলছে। একটিতে পুড়ছে অরজিৎ রায়ের মরদেহ। আরেকটিতে সুমিতা দাসের।
মঙ্গলবার রাতে সিলেট নগরীর চালিবন্দরের মহাশশ্মানঘাটে গিয়ে দেখা যায় এ দৃশ্য।
সতীদাহের অন্ধকার যুগ অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছে বাঙালি হিন্দু সমাজ। স্বামী-স্ত্রী সহমরণের অধ্যায়ও অতিক্রম করা হয়েছে অনেক আগেই। তবু সহমরণই হলো অরজিৎ-সুমিতা দম্পতির। মঙ্গলবার সকালে সিলেট নগরীর মাদানীবাগ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই দম্পতি। আহত হয় তাদের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে।
২০০২ সালে অরজিৎকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন স্কুল শিক্ষিকা সুমিতা। জীবনের মতো মৃত্যুও বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি তাদের। একটি দুর্ঘটনায় একসাথেই মৃত্যু হলো দু'জনের।
মঙ্গলবার রাতে শশ্মানঘাটে শেষকৃত্যের সময় দুই পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
এদিকে, দুর্ঘটনায় আহত এই দম্পতির মেয়ে অরুনিমা রায় স্নেহা ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্নেহাকে এখনো জানানো হয়নি তার বাবা-মায়ের মৃত্যুর খবর।
মঙ্গলবার সকালে এমসি কলেজ ছাত্রবাস সংলগ্ন মাদানীবাগে প্রাইভেটকার ও অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত হন স্নেহার বাবা স্কলার্স হোম (শাহী ঈদগাহ) এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা অরজিৎ রায় (৫০) ও মা দক্ষিন সুরমার মহালক্ষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা দাস (৪৫)। এ দুর্ঘটনায় অরুনিমা রায় স্নেহাও (১২) গুরুতর আহত হয়। স্নেহা স্কলার্সহোমের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
চিকিৎসকরা জানান, স্নেহার অবস্থা এখন কিছুটা উন্নতির দিকে। জ্ঞান ফেরার পর থেকেই সে বাবা-মাকে খুঁজছে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর সংবাদ তাকে জানানো হয়নি। ইনজেকশন দিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।
নিহত সুমিতা দাশ কবি ও সংস্কৃতি কর্মী ধ্রুব গৌতমের বোন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ওই প্রাইভেটকারের মালিকও মিনু মিয়াকে পুলিশ আটক করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয় বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে শাহপরাণ থানার ওসি শাহজালাল মুন্সীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
মিনু মিয়ার মেয়েও স্কলার্সহোমের শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনার সময় তিনি গাড়িতে করে মেয়েকে স্কুলে দিয়ে ফিরছিলেন।
আপনার মন্তব্য