নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ এপ্রিল, ২০১৫ ০১:০৯

ওসমানী থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যেনো এপ্রিল ফুল!

শুরুর পরপরই বন্ধ হয়ে গেলো সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

১ এপ্রিল সিলেট থেকে শুরু হয়েছিলো সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এদিনই আন্তর্জাতিক তকমা লাগার ১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো ওসমানীতে অবতরণ করে বিদেশী বিমান। ১ এপ্রিল ফ্লাই দুবাই'র একটি উড়োজাহাজ অবতরণ করে ওসমানী বিমানবন্দরে। অথচ শুরুর পরপরই বন্ধ হয়ে গেছে ওসমানী থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো সিলেট থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ১ এপ্রিল বিদেশী উড়োজাহাজের ওসমানীতে অবতরণের মাধ্যমে স্বপ্ন পুরণ ঘটে সিলেটবাসীর। স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেন এই অঞ্চলের প্রবাসীরা।

কথা ছিলো সপ্তাহে ৫ দিন ফ্লাই দুবাই'র ফ্লাইট অবতরণ করবে ওসমানী বিমানবন্দরে। অথচ ১ এপ্রিলের পর আর ওসমানীতে অবতরণ করেনি ফ্লাই দুবাই। শুক্রবার ও শনিবার ফ্লাই দুৃবাই'র যে দুটি ফ্লাইট ওসমানীতে অবতরণ করার কথা ছিলো সে ফ্লাইট দুটি অবতরণ করে ঢাকায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে। শনিবার সিলেট থেকে ফ্লাই দুবাই'র যাত্রীদের বাসে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ফলে সিলেট থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু এপ্রিল ফুল হিসেবে দেখা দিয়েছে সিলেটবাসীর জন্য। ১ এপ্রিল শুরু হয়ে ১ এপ্রিলেই শেষ।

সারা বিশ্বে ১ এপ্রিলকে এপ্রিল ফুল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই দিনটিতে মজা করে একে অপরকে বোকা বানিয়ে থাকেন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর নামে সিলেটবাসীকেই যেনো বোকা বানানো হলো, এমন মন্তব্য সিলেটের বিদেশ যাত্রীদের।

১৭ বছর আগে ওসমানী বিমাবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষনা করা হলেও এতোদিন এ বিমাবন্দর থেকে ছিলো না সরাসরি কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। রিফুয়েলিং স্টেশনের অভাবে এতোদিন বিদেশী উড়োজাহাজও অবরতণ করেনি ওসমানীতে। এতে দূর্ভোগ পোহাতে হতো্ সিলেটের প্রবাসীদের।

দীর্ঘ প্রতিক্ষা শেষে সম্প্রতি ওসমানী বিমানবন্দরে নির্মিত হয় রিফুয়েলিং স্টেশন। এরফলে ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয় সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। সকল সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ওসমানী বিমাবন্দর থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো কারন খুঁজে পাচ্ছেন না সিলেটবাসী। ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্ষোভ বিরাজ করছে এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে।

ওসমানী থেকে ফ্লাই দুবাই'র ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো কারন জানাতে পারেননি এ বিমানবন্দরটির ব্যাবস্থাপক হাফিজ আহমদ। কেনো ফ্লাইট বন্ধ হয়ে তা তার জানা নেই বলে মন্তব্য করেন হাফিজ আহমদ।

জানসা যায়, শনিবার বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমাবন্দরে দুবাই থেকে যাত্রী নিয়ে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইট আসার কথা ছিল। পরে ওসমানী বিমাবন্দরে নির্মিত রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে ফ্লাইটটি ফের দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণবশত সেটি আসছে বলে জানিয়েছে ওসমানী বিমাবন্দর সূত্র।

সূত্রটি জানায়- সিলেট এমএজি ওসমানী বিমাবন্দরে ফ্লাই দুবাই এয়ালাইন্সের ফ্লাইট না আসায় ১৬৪ জন দুবাইগামী যাত্রীকে এনা পরিবহনের একটি বাসে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শনিবার বেলা ২টায় তাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

এদিকে সূত্রটি আরো জানায়- শুক্রবারও একইভাবে ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত ফ্লাইটটি ওসমানী বিমানবন্দরে আসেনি। ফলে দুবাইগামী যাত্রীদেরকে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হয়।

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত