০৬ এপ্রিল, ২০১৫ ০১:২৩
বৈশাখ এখনো শুরু হয়নি। চৈত্র মাস চলছে। তবু শুরু হয়ে গেছে কালবৈশাখি ঝড়। দেশের নানা স্থানের মতোই গত দু'দিন ধরে সিলেট বিভাগজুড়ে তান্ডব চালিয়েছে কালবৈশাখি। রোববার নগরীসহ সিলেট নগরীর বিভিন্ন উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখি ঝড়।
ঝড়ে বিভাগের ৪ উপজেলায় অন্তত ৫ জন মারা গেছেন। বিধ্বস্থ হয়ে গেছে সহস্ত্রাধিক বাড়িঘর। উপড়ে পড়েছে শতাধিক গাছ। বিভিন্ন উপজেলায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
রোববারের ঝড়ে ভেঙ্গে পড়েছে বিদ্যুৎব্যবস্থা। অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুটি ও লাইন উপড়ে পড়েছে। ফলে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকা। রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত সিলেট নগরী ও নগরীর উপকণ্ঠের এলাকাসহ বিভিন্ন উপজেলা বিদ্যুৎহীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঝড়ে নিহত ৫ জনের মধ্যে ২ জন ছাতক উপজেলার, বাকী ৩ জন গোয়াইনঘাট, শাল্লা ও তাহিরপুরের।
রোববার সকালে সিলেট নগরীতে কালবৈশাখী ঝড় তান্ডব চালায়। এতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে উপড়ে ফলে গাছ। বন্ধ হয় যান চলাচল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। রোববার রাত পর্যন্ত নগরীর অনেক স্থানে ছিলো না বিদ্যুৎ। ছিড়ে গেছে লাইন।
রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ না পেয়ে বিদ্যুতের দাবিতে অনেকস্থানে বিক্ষোভও করেছেন এলাকাবাসী। রোববার রাতে সিলেট-তামাবিল সড়কের খাদিমে সড়ক অবরোধ করে বিদ্যুতের জন্য বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী।
গোয়াইনঘাট : বজ্রপাতে গোয়াইনঘাটে মোতাহার আলী (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বেলা আড়াইটার দিকে গোয়াইনঘাটের বগাইয়া হাওর গ্রামের নিজ বাড়িতে বজ্রপাতে মারা যান তিনি।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ছাতক : ছাতকে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরবাড়ি ও বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাল বজ্রপাতে মারা গেছেন দুই কৃষক। বৈশাখী ঝড়ে শনিবার রাত ৮টা থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে পরিনত হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল।
রোববার সকালে বাড়ির পার্শ্বেবর্তী হাওরে ধান ক্ষেত দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে লাশ হয়ে ফিরলেন ফয়াজুল ইসলাম (৪৫) নামের এক কৃষক। ফয়াজুল উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের জিয়াপুর (নতুন পাড়া) গ্রামের জুনাব আলীর পুত্র। এদিকে রোববার ভোরে বাড়ির পুকুরে মাছ ধরতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আবদুছ সালাম (৪০) নামের আরো একজন কৃষক। তিনি দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের গোরাদেউ গ্রামের আবদুল হান্নানের পুত্র। বজ্রপাতে নিহত এ দু’কৃষকের লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দিরাই ও শাল্লা : দিরাই পৌর শহর ও উপজেলার নয় ইউনিয়নে রোববার ভোরের কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত দুই হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শাল্লা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের সুবল চন্দ্র দাসের ছেলে নিবেশ চন্দ্র দাস বজ্রপাতে মৃত্যু বরন করেন। ঝড়ে বিদ্যুত লাইন বিপর্যস্থ হওয়ায় গত রাত থেকে বিদ্যুতবিহিন রয়েছে উপজেলা সদর।
পৌর মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুল বলেন, অর্ধ ঘন্টাব্যাপি বয়ে যাওয়া ঝড়ে পৌরসভার নররোত্তমপুর গ্রাম, আনোয়ারপুর, নয়া হাটি, কান্দা হাটি ও ভরারগাও গ্রামের শতাধিক কাচা ঘর বাড়ি বিধ্বস্থ ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতি গ্রস্থ ৭০ টি পরিবারের মধ্যে টিন ও বাঁশ প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব এরশাদুল আলম জানান, প্রাথমিকভাবে দুই উপজেলায় ১৯ শতাধিক কাচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এখনো মোট ক্ষয় ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা যায়নি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ : দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শনিবার দিবাগত রাতে কাল বৈশাখী ঝড়ে শিলা বৃষ্টিতে চলতি মৌসুমের বোরো ফসল, বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছপালাসহ ঘরবাড়ি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার পাথারিয়া, দরগাপাশা, শিমুলবাক, জয়কলস, পূর্ব পাগলা, পশ্চিমপাগলা, পুর্ব বীরগাঁও, পশ্চিম বীরগাঁও ইাউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ওপর দিয়ে শনিবার দিবাগত রাত ৯টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত তুমুল বেগে বয়ে যাওয়া ধমকা হাওয়া ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে ওইসব এলাকার চলতি মৌসুমের আধাপাকা বোরো ধানক্ষেতে শিলা বৃষ্টি, বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছপালা,বৈদ্যুতিক লাইন সহ বহু কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ি ঘরের টিনের চালা, ফুটপাথে বসানো টং দোকান, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঝুপড়ি ঘর ঝড়ো হাওয়ায় লন্ডভন্ড হয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। তা ছাড়া মৌসুমী ফল আম সহ বিভিন্ন ফসলরের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.ইবাদত হোসেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
তাহিরপুর : সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরে বজ্রপাতে সুমন মিয়া(১৫) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় আহত হয়েছে উজাহিদ মিয়া(১৩) ও বদরুল মিয়া(১৪) নামের দুই শিশু। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত সুমন মিয়া উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের উলিপুর-বাগগাঁও গ্রামের কাচা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, রোববার বিকাল সাড়ে ৩টায় উলিপুর-বাগগাঁও গ্রামের মাঠে খেলাধুলা করার সময় বজ্রপাতের শিকার হয়ে সুমন মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ সময় তার দুই সহপাটি উজাহিদ মিয়া ও বদরুল মিয়া আহত হয়। তাহিরপুর থানার ওসি শহিদুল্লাহ এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আপনার মন্তব্য