০৬ এপ্রিল, ২০১৫ ১৯:৪৩
স্ত্রীকে হত্যার পাঁচদিন পর নিজেই আত্নহত্যার পথ বেছে নিলেন আনসার আলী। প্রথম দফায় আত্মহত্যায় ব্যর্থ হলেও সোমবার বিকেলে ওসমানী হাসপাতালের ছাদ থেকে পড়ে স্বেচ্ছা মৃত্যুর পথ বেছে নেন তিনি।
আনসার আলী মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা। ১ এপ্রিল তিনি নিজের স্ত্রী আজিরুন নেছাকে হত্যা করেন। স্ত্রীকে খুনের পরপরই গলায় ছুরি লাগিয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। সে যাত্রায় বেঁচে গেলো সোমবার বাঁচানো যায় নি আনসার আলীকে।
সেমবার ওসমানী হাসপাতালের চারতলার ছাদ থেকে লাফিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। বিকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নীচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার গাজীপুর গ্রামের উসমান আলীর ছেলে আনসার আলী স্ত্রী আজিরুন বেগমকে গলা কেটে খুন করেন। পরে আজিরুনের লাশ বস্তাবন্দি করে ঘরের ভেতর কৌশলে লুকিয়ে রাখেন। এরপর স্ত্রীকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা জানিয়ে কুলাউড়া থানায় একটি অভিযোগ করেন। পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজাখুজির পর আজিরুনের লাশ একটি ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার করে।
এরপর পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে নিজেই গরায় ছুরি চালিয়ে প্রথমদফা আত্মহত্যার চেষ্ঠা চালান। সে সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
দু’দিনের চিকিৎসায় আনসার আলী অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেন। সোমবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে ওসমানী হাসপাতালের ৪ তলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ হাসপাতালের নীচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার ওসি মতিয়ার রহমান বলেন, আনসার আলীর আফজল ১২ বছরের ও উজ্জ্বল নামে ৭ বছরের দু’ট সন্তান রয়েছে। সে লোমহর্ষক ঘটনা ঘটিয়ে প্রথম দফা আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল। কোতোয়ালি থানা থেকে আনসার আলী আত্মহত্যার ঘটনাটি তাকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, তার লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এরআগেও সে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল বলে কুলাউড়া থানা থেকে তাকে জানানো হয়েছে।
আপনার মন্তব্য