০৭ এপ্রিল, ২০১৫ ১৪:৪৩
প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত মার্চ ও শেষ হয় নি সুনামগঞ্জের সুরমা সেতুর কাজ। শুধু অবহেলা ,প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে সুনামগঞ্জের উন্নয়ন। একটি মাত্র ব্রীজের কারণে জেলার সদরের সাথে ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা হচ্ছে না ৪টি (তাহিরপুর,বিশ্বাম্ভরপুর,জামালগঞ্জ,মধ্যনগর ,ধর্মপাশা ) উপজেলা বাসী। যার ফলে ক্ষোভ বিরাজ করছে ১০ লক্ষাধিক জনসাধারণের মাঝে। সুরমা সেতুর মাঝ অংশের সংযোগ দিতে ও ব্রিজের কাজ দ্রুত শেষ করতে মার্চ মাসে যানবাহন চলাচল ও সর্ব স্তরের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধান মন্ত্রীর ঘোষণার পরও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। ধীর গতিতেই চালিয়েছে নির্মাণ কাজ। ফলে প্রধান মন্ত্রীর ঘোষিত মার্চে শেষ হয় নি সুরমা সেতুর নির্মাণ কাজ। চীন থেকে স্টিল ট্রাসগুলো ও প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রী আনা হয়েছিল নিদিষ্ট সময়ে। সেতুর মাঝের সংযোগ দিতে সেতু নির্মাণের কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অবহেলার কারণে এ বছরও হবে না বলে মনে করছেন জেলা সদরে আসা বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণ। আর সে কারণে ফুঁসে উঠছে চারটি উপজেলা বাসী ও সুনামগঞ্জ জেলা বাসী। সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে ৮বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হয় নি।
এ নদীতে ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হলে জেলা সদর থেকে সরা সরি সড়ক পথে বিশ্বাম্ভরপুর,জামালগঞ্জ,তাহিরপুর হয়ে মধ্যনগর, ধর্মপাশা উপজেলা বাসীর মাঝে উন্নয়নের এক প্রকার জোয়ার বইবে। আর যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে একটি এলাকা,সমাজের উন্নয়ন ও দেশের সমৃদ্ধির প্রতিফলন গঠে। যার ফলে এই ব্রিজ টির উপর নির্ভর করছে ৪টি উপজেলার হাজার হাজার জনসাধারণ আশায় বুক বেঁধে আছে। তাই সুরমা নদীর উপর নির্মাণাধীন ব্রিজ টি দ্রুত শেষ করার দাবী জানান সুনামগঞ্জ জেলা বাসী।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানাযায়-২০০৫ সারে ১অক্টোবর সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণে ২ কোটি ৫৯লাখ ৬০হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। বরাদ্দের পর ২০০৬-৭ অর্থ বছরে সুনামগঞ্জ শহর সংলগ্ন মল্লিকপুর এলাকায় ১১৫ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট সুরমা সেতুর কাজ শুরু করা হয়। অর্থ সংকটের অজুহাতে ৩বছর নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের দু-এমপি ও জেলার সর্ব স্তরের জনমাধারনের দাবীর মুখে আবারো এডিপিতে সুরমা সেতু প্রকল্পটি অর্šÍভুক্ত করা হয়। এর ব্যয় ধরা হয় ৬৪কোটি ৫৪ লাখ টাকা। বরাদ্দের পর একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৬বছরে সেতুর ফাইলিং ও দু পাশের সংযোগ মাটির কাজ শেষ করে। বাকি থাকে সেতুর মাঝের সংযোগ।
এই সংযোগ দিতে চলছে নানা টালবাহানা। তাহিরপুর,বিশ্বাম্ভরপুর,জামালগঞ্জ সহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে জেলা সদরে আসা লোকজন বলেনÑআমরা জনসাধরনের সুযোগ-সুবিধার কথা কেউ ভাবছে না। প্রধান মন্ত্রী বলে মার্চের মধ্যে শেষ করার জন্য আর নির্মাণ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলে ভিন্ন কথা,আমরা এখন ফাটা বাঁশের চিপায় পড়ে আছি। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন-শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণ কাজ শেষ করতে না পারলে বর্ষায় পাহাড়ি ডলে পানির চাপের কারণে কাজ করতে পারবে না। জেএন (জেভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক লুৎফুর রহমান জানান- নির্মাণ কাজ শেষ করতে আরও সময় লাগবে। সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) এর উপ সহকারী প্রকৌশলী মহসিন আহমেদ জানান-আমরা দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। আগামী জুন মাসের মধ্যে সুনামগঞ্জের সুরমা সেতুর কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আপনার মন্তব্য