০৭ এপ্রিল, ২০১৫ ১৭:৪৮
গত ২৮ মার্চ সড়কে ধানের চারা রোপন করে সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কের ভগ্নদশার প্রতিবাদ জানায় স্থানীয়রা
অবেশেষে দূর্ভোগ লাঘব হতে যাচ্ছে কোম্পানীগঞ্জ-ভেঅরাগঞ্জবাসীর। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়ক পুণঃনির্মান প্রকল্প। ফলে মরণ ফাঁদ হয়ে উঠা এই সড়ক সংস্কারে সকল আমলাতান্ত্রিক জটিলতাই কেটে গেলো। এবার কাজ শুরুর পালা।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়ক প্রায় ৯ বছর ধরেই চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে আছে। ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের স্থানে স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। এর মধ্যে প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তার পিচ একেবারে উঠে গেছে। গত কয়েকিদের বৃষ্টিতে পানি জমে পুরো সড়ক যেনো এদো ডোবাখানায় পরিণত হয়েছে।
অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। নিয়মিতই ঘটছে দুর্ঘটনা। খোদ সড়কমন্ত্রী পরিদর্শন করতে এই সড়কের দুরাবস্থার চিত্র দেখে গেলেও সংস্কারে নেওয়া হচ্ছিলো না কোনো উদ্যোগ।
সড়কটি সংস্কারের দাবিতে বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন এই অঞ্চলের মানুষেরা। সর্বশেষ স্থানীয় ছাত্র সংগঠন অনিদির্ষকালের অবরোধের ডাক দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাংসদের অনুরোধে অবরোধ তুলে নিলেও সড়কে ধানের চারা রোপন করে প্রতিবাদ জানায় দূর্ভোগের শিকার হওয়া মানুষেরা।
আজ একেনেকে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক প্রকল্পটি অনুমোদিত হওয়ায় দীর্ঘদিন পর কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জবাসীর দূর্ভোগ লাগবের সম্ভাবনা দেখা দিলো।
আজ একেনেকে এ প্রকল্প ছাড়াও সভায় আরো দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, একনেক সভায় ৩টি প্রকল্পে ৬৩৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা
অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাত থেকে (জিওবি) ৬২২ কোটি ৫১ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধরী, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য