মাধবপুর প্রতিনিধি

০২ নভেম্বর, ২০১৬ ১৮:০২

বাংলাদেশকে একটি বিশেষ ধর্মের রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেয়া হবে না : রানা দাশ গুপ্ত

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত বলেছেন, সরকারের ভিতর ও বাইরে থেকে সাম্প্রদায়িকতাকে যারা উস্কে দেয়, তারা দেশ ও জনগনের শক্র। মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আজ বাংলাদেশকে একটি দল একটি বিশেষ ধর্মের রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। কিন্তু তা হতে দেয়া হবে না।

বুধবার (২ নভেম্বর) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ঝুলন ও কালি মন্দির পরিদর্শন শেষে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা একসাথে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ অর্জন করতে চাই। বাংলাদেশে সমঅধিকার অর্জন করতে চাই। বাংলাদেশের ভবিষ্যত অগ্রযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

ঘটনার দিন পুলিশের দায়িত্বহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রানা দাশ গুপ্ত দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনকে অনুরোধ করেন।

রানা দাশ গুপ্ত বলেন, নাসিরনগরে হিন্দু বাড়িতে ও মন্দিরে হামলার সময় সেখানকার মুসলমান ভাইয়েরা এগিয়ে এসে রক্ষা করে আশ্রয় দিয়েছেন। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, এটিই হল মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা, হাজার বছরের সম্প্রীতি। এই সম্প্রীতি নষ্ট করে হিন্দুদের বিতাড়িত করে যারা এক ধর্মের রাষ্ট্রে পরিনত করতে চায়, তারা জাতীর শত্রু। একাত্তরে তারা পারেনি, এখনও পারবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এড. সুলতানা কামাল বলেন, মন্দির ও হিন্দুদের উপর আঘাত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর আঘাত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে স্বজন হারিয়েছি, অত্যাচারিত হয়েছি, সহজে আমরা দেশকে অপশক্তির হাতে ছেড়ে দিব না। সাম্প্রদায়িকতাকে প্রতিরোধ করে অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গড়ে তুলব।

কালি মন্দির প্রাঙ্গনে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে পৌর মেয়র হিরেন্দ্র লাল সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জঙ্গীবাদ বিরোধী কমিটির সদস্য সচিব নুর মোহাম্মদ তালুকদার, নাগরিক কমিটির সদস্য ডাঃ অশিক বরন রায়, পংকজ ভট্রাচার্য, খুশি কবির, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী, কেন্দ্রিয় নেতা বিপ্লব দে, নারী নেত্রী শ্রীমতি জয়ন্তি রায়, প্রিয়া সাহা, পদ্ধাবতি দেবী, হবিগঞ্জ পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি এডঃ পূন্যব্রত চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টন ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডভোকেট অহীন্দ্র দত্ত চৌধুরী প্রমুখ। এ সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নাগরিক কমিটি ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ নাসিরনগরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর গ্রামের রসরাজ দাস নামে এক যুবক ফেসবুকে 'ইসলাম ধর্মকে অবমাননা' করে একটি ছবি পোস্ট দেয়ার অভিযোগে নাসিরনগর ও মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন মন্দির এবং হিন্দুদের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত