কিবরিয়া চৌধুরী, নবীগঞ্জ

০২ নভেম্বর, ২০১৬ ১৮:৫৪

নবীগঞ্জে আগাম আমন ধান কাটা শুরু, কৃষকের মুখে হাসি

অগ্রহায়ণ মাস আসতে এখনো প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি। চলছে কার্তিকের মাঝামাঝি সময়। তবে এখন আর অগ্রহায়ণ মাসের জন্য অপেক্ষা নয়, কার্তিক মাসেই কৃষকরা হবিগঞ্জের নবীগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছেন। এবার আগাম আমন ধানের ফলন হয়েছে ভালো। ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হওয়ায় কৃষকদের মুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক।

বসে নেই কৃষক বধূরাও। ধান কেটে বাড়ি আনার পর ধান মাড়াই ও শুকিয়ে ঘরে তোলায় ব্যস্ত কৃষকবধূ ও বাড়ির মেয়েরা। ধান কাটা ও মাড়াই করতে কৃষি শ্রমিক পাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দিন হাজিরায় আড়াই থেকে ৩০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

অবশ্য এবার আমন আবাদের শুরুটা ভালো ছিল না। প্রথম থেকেই কৃষকের মধ্যে ছিল শঙ্কা। প্রথমত, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকের মাথায় হাত পড়ে। আমন ধান উৎপাদনের যে লক্ষ্য তারা ঠিক করেছিলেন, তা পূরণ না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছিলো। তবে বর্ষাকাল পেরিয়ে যাওয়ার পর আকাশে কালো মেঘের আনাগোনায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে।

ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আমনের ফলন এবার ভালো হয়েছে। বিভিন্ন আগাম আমনের স্থানীয় জাত অবাক করে দিয়েছে কৃষকদের। সময়ের সাথে সাথে নতুন নতুন জাতের আগাম আমন ধান কৃষককে উজ্জীবিত করে তুলছে।

কৃষকরা জানান, তিন বছর আগেও এক একর জমির ধান কাটা ও মাড়াই করতে মজুরি যা লাগত, এবার প্রায় তিন গুণ বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। অপরদিকে দিন হাজিরায় যেসব শ্রমিক কাজ করতেন, তাদেরও মজুরি দ্বিগুণ হয়েছে। এবার তারা ২৫০ টাকার নিচে কাজ করছেন না। কোনো কোনো স্থানে তিন বেলা খাওয়াসহ ৩০০ টাকা হাজিরা পাচ্ছেন।

বাস্তবতায় অগ্রহায়ণ মাসের আমন ওঠার আগে আগাম জাতের অনেক ধানের আবাদও হচ্ছে নবীগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে। সেই ধান এখন ঘরে উঠছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দুলাল উদ্দিন জানান, উপজেলায় এ বছর ৯ হাজার ৬ শত ৫৩ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিলো। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ফলন ভাল হওয়ায় এবার ৯ হাজার ৮ শত  ৮০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এবার আশার চেয়ে ফলন অনেক ভাল হয়েছে

আপনার মন্তব্য

আলোচিত