নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ জানুয়ারি, ২০১৭ ২০:০৩

সিলেটে আবারও বখাটের কোপের শিকার কলেজছাত্রী

সিলেটে খাদিজা বেগম নার্গিসের মতো নির্মমতার শিকার হয়েছেন আরেক কলেজ ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে জকিগঞ্জে। এই উপজেলার রসুলপুর গ্রামের ইছামতি ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ঝুমা বেগমকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে আহত করেছে বাহার উদ্দিন নামে এক যুবক।

রোববার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে স্থানীয় কালীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথে এ নির্মম হামলার শিকার হন ঝুমা। ঝুমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ধস্তাধস্তিতে আহত হন তাঁর মা। আহত ঝুমা আক্তার (১৭) উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের মেয়ে।

ঝুমাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঝুমা বেগম বলেন, গত বছর দেড়েক ধরে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে নানাভাবে বিরক্ত করে আসছিলেন বাহার উদ্দিন। কিন্তু তিনি বাহারের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আজ (রোববার) তাঁর উপর হামলা চালায় সে। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর মায়ের উপরও হামলা চালানো হয়।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ছাত্রীকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

ঝুমার মা করিমা বেগম বলেন, সকালে ছোট ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করতে ঝুমাকে নিয়ে বের হন তিনি। পথে একই গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে বাহার উদ্দিন (২২) গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঝুমাকে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

বাহার তিন বছর ধরে ঝুমাকে উত্ত্যক্ত করে আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিয়ের প্রস্তাব দিলে ঝুমা রাজি না হওয়ায় প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা বলেন, ঝুমার বাম হাত ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। মেয়েটি এখন আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার পর থেকে বাহার পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির বলেন, ঝুমাকে বিরক্ত করতো বাহার। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে সালিশও হয়েছে। বাহার কিছুদিন মাদ্রাসায় পড়ালেখা শেষে এখন ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করেন বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বদরুল আলম। ঘটনার পরপরই লোকজন ধাওয়া করে বদরুলকে ধরে পুলিশে দেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত