সিলেটটুডে ডেস্ক

১১ আগস্ট, ২০২৬ ০১:৪০

এনটিআরসিএর সুপারিশ নিয়ে ধোঁয়াশা: সচিবের কার্যবিবরণী, শিক্ষামন্ত্রীর না-সূচক বক্তব্য

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) হাতে থাকবে, নাকি পুনর্নিয়োগের পুরোনো পদ্ধতি অর্থাৎ ম্যানেজিং কমিটির কাছে ফিরে যাবে— এ নিয়ে চরম বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব স্বাক্ষরিত এক অফিশিয়াল কার্যবিবরণীতে এনটিআরসিএর সুপারিশ ক্ষমতা বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলেও, তা অস্বীকার করেছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম সংক্রান্ত এক বৈঠককে কেন্দ্র করে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই সভার সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে ৪ আগস্ট একটি কার্যবিবরণী জারি করা হয়।

সচিব স্বাক্ষরিত ওই কার্যবিবরণীতে জানানো হয়, ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী এনটিআরসিএ যে নিয়োগ সুপারিশ করে আসছিল, তা আর করবে না। ২০০৫ সালের মূল আইন অনুযায়ী এনটিআরসিএকে আগের মতো শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। সভায় শিক্ষামন্ত্রী মত দেন যে, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগ সুপারিশ করার পর বিভিন্ন জটিলতা ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আগের ব্যবস্থায় ফিরে গিয়ে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন তিনি।

কার্যবিবরণী সূত্রে জানা যায়, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের জন্য ৭৭,৭৯৯টি শূন্যপদের চাহিদার বিপরীতে যাচাই-বাছাই শেষে ৭৫,৭৬৯টি এমপিওভুক্ত পদ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮তম শিক্ষক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য ৯,৮৪২টি পদ সংরক্ষণ করে অবশিষ্ট ৬৫,৯২৭টি পদে ১৯তম নিবন্ধনের মাধ্যমে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ১৮তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের নিজ নিজ পছন্দ অনুযায়ী স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও উল্লেখ করা হয় ওই কার্যবিবরণীতে।

এছাড়া দ্রুত বদলি কার্যক্রম সম্পন্নকরণ, ৬ষ্ঠ ও ৭ম নিয়োগ পরীক্ষায় ভুল প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ পাওয়া ১৯৯ জন প্রার্থীকে পুনঃসুপারিশ এবং ৮ম এনটিআরসিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদের ১৪,৯৪২ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তও স্থান পায় এতে।

তবে এই কার্যবিবরণী প্রকাশের পরপরই দেশজুড়ে শিক্ষকপ্রার্থীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আলোড়ন সৃষ্টি হলে অবস্থান বদল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) শিক্ষামন্ত্রীর মিডিয়া সেলের মাধ্যমে প্রদত্ত এক বার্তায় ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্ট জানান, ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০০৫ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। এনটিআরসিএর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কীভাবে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এ বিষয়ে কোনো অপতথ্য প্রচার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ রইল।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত