১৫ জানুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৭
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পৌষ সংক্রান্তি মেলায় প্রকাশ্যে বসেছিল জমজমাট জুয়ার আসর।
শনিবার (১৪ জানুয়ারি) দাসেরবাজার ইউনিয়নের বাগীরপার ও বর্ণি ইউনিয়নের মিহারী এলাকায় সংক্রান্তি মেলায় প্রকাশ্যে রাতভর অনুষ্ঠিত নিষিদ্ধ জুয়ার আসরে বড়লেখা, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জসহ ৪/৫টি উপজেলার জুয়াড়িরা অংশ নেয়। মেলায় জুয়া চলছে- এমন খবরে রাতে কয়েকবার অভিযান চালালেও জুয়াড়িরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাগীরপার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মেলার মাঠের পূর্ব পাশে চটের বস্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রায় ৫০-৬০টি জুয়া খেলার ঘর। ঘরগুলোতে বসার জন্য খড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিছানা। নির্বিঘ্নে জুয়া খেলা নিশ্চিতের জন্য ঘরের আশপাশে ছিল মেলা কমিটির নিয়োজিত সেচ্ছাসেবক দল। রীতিমতো উৎসব করে রাতভর চলেছে নিষিদ্ধ জুয়া।
পরিচয় গোপন রেখে একটি ঘরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, ১০/১৫ জনের একটি দল মগ্ন রয়েছে জুয়া খেলায়। প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করে লাভের আশায় সর্বস্ব খুইয়ে জুয়া-মেলায় আসবেন না বলে পণ করলেও, পরক্ষণে ‘ভাগ্য খুলতে’ পারে ভেবে আবারও খেলতে বসেছেন এমন অনেককেই দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিহারী মেলা কমিটির সভাপতি বর্ণি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুবোধ চন্দ্র দাস, বাগীরপারের সভাপতি শিবু দাসসহ কমিটির লোকজন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে মেলার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় জুয়ার আসর।
তাবু থেকে বের হয়ে মেলার মাঠে চাদর ও চটের বস্তা বিছিয়েও চলে জুয়ার আসর। ফরগুটি, চরকা, ১/১০ খেলায় মেতে উঠেছিল সব বয়সের মানুষ। জুয়ার নেশায় মত্ত অনেককেই খেলা শেষে সর্বস্ব খুইয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।
মেলার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, রিকশাচালক, ছাত্র, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ টাকার খেলায় মেতে উঠেছেন। দামী গাড়ি চড়েও গভীর রাতে দুরদুরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন পেশাদার জুয়াড়িরা। জুয়ার অর্থ নিয়ে পকেট ভারী করছে জুয়া ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষ আয়ের সব টাকা ঢেলে দিচ্ছেন তাদের পাতা ফাঁদে।
একই চিত্র ছিল বর্ণি ইউনিয়নের মিহারীর মেলায়ও। সেখানেও চটের বস্তা দিয়ে তৈরি করা হয় প্রায় ৪০-৫০টি জুয়া খেলার ঘর।
মিহারীতে মেলায় জুয়ার আসরের ব্যাপারে জানতে আয়োজক কমিটির সভাপতি বর্ণি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুবোধ চন্দ্র দাস উত্তেজিত হয়ে বলেন, তার মেলায় কোন জুয়া চলেনি। মেলায় জুয়া চলছে- এরকম ছবিসহ প্রমাণ আছে জানালে তিনি বলেন, "প্রমাণ থাকলে নিউজ করেন, আমিও দেখে নিব। এসব কি নতুন হয় নাকি?"
বাগীরপারের মেলা কমিটির সভাপতি শিবু দাস মেলায় জুয়া চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে জুয়ার ছবি আছে জানালে তিনি বলেন, "মেলায় আমোদ-ফুর্তির জন্য একটু-আধটু আসর বসে। এগুলো সব জায়গায়ই হয়।"
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান বলেন, "জুয়া চলছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেলাগুলোতে পুলিশ কয়েকবার অভিযান চালায়। মূল সড়ক থেকে মেলার দুরত্ব প্রায় আধা কিলোমিটার। পুলিশ রাস্তায় গাড়ি রেখে মেলায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে জুয়াড়িরা পালিয়ে যায়। মেলায় জুয়া বন্ধে পুলিশ তৎপর ছিল।"
আপনার মন্তব্য