১৭ জুলাই, ২০১৫ ১৬:৪৩
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট বিভাগে এবার প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে দেশে এসেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার প্রবাসীদের দেশের আগমনের সংখ্যা বেশি।
সিলেট নগরীর বিপণিবিতান গুলোসহ বিভাগের অন্যান্য জেলা ও উপজেলা শহরের বিপণিবিতানগুলোতে তাই প্রবাসীদের ভীড় লক্ষ্যণিয়। এর বাইরেও প্রবাসীদের পরিজনসহ অন্যান্যরাও যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বিপণিবিতানগুলোতে।
সিলেট বিভাগের বাসিন্দা প্রবাসীদের বেশিরভাগই লন্ডন, আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাস করে থাকে। লন্ডন, আমেরিকার প্রবাসীদের অধিকাংশই স্বপরিবারে সেখানে বাস করে বলে ঈদের মৌসুমে তাদের দেশে আগমন লক্ষ্যণিয়। বরাবরের মতো এবারেও এর ব্যাত্যয় ঘটেনি।
এর বাইরে যারা দেশে আসতে পারেননি তারা তাদের পরিবার-পরিজনদের ঈদের খরচ ইতোমধ্যেই পাঠিয়ে দিয়েছেন। ফলে ব্যাংকগুলোতে ফরেন রেমিটেন্স বিভাগের ওপর চাপ ছিল চোখে পড়ার মতোই।
গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি প্রবাসী এসেছেন বলে সিলেট ওভারসিজ সেন্টার সূত্রে জানা গেছে।
সিলেটের বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, ছাতক, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বাহুবল উপজেলা বিশেষত প্রবাসী অধ্যুষিত এবং সেখানকার মানুষদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশে ফিরেছেন ঈদের আনন্দ পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে উপভোগ করতে।
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসীদের দেশের আসার কারণে স্থানীয়ভাবে উপকৃত হচ্ছেন এলাকার অসহায়, গরীব-দুঃস্থ পরিবারগুলো। তারা সাধ্যমত সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তাদের।
ঈদ উপলক্ষ্যে লন্ডন থেকে আসা বিয়ানীবাজারের পারভেজ আহমেদ জানান- সারা বছর তারা অপেক্ষা করে থাকেন কখন বাড়ি ফিরবেন। ঈদ তাদের জন্যে এ সুযোগ করে দেয়। তাই তিনি বউ-বাচ্চাসহ দেশে ফিরেছেন, মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে ঈদ করতে।
দুবাই প্রবাসী বিশ্বনাথের ওসমান মিয়া জানান- পরিবারকে দেশে রেখে বাইরে থাকতে হয়। প্রতিবছর সম্ভব হয় না তবে সুযোগ পেলেই আসেন এবং এবার ঈদের সময় দেশে এসেছেন সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে।
গোলাপগঞ্জের আনোয়ার হোসেন আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছেন ঈদ করতে। তিনি জানান- গত বছর হরতাল, অবরোধ আর জ্বালাও-পোড়াওয়ের কারণে তিনি পরিবার নিয়ে দেশে আসার সাহস করেননি। এবার দেশে সে রকম রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকায় দেশে আসতে পেরেছেন।
তিনি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের কথা উল্লেখ করে বলেন- প্রবাসীদের পাঠানো কোটি ডলারের রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃত, তাহলে অন্তত আমাদের কথা ভেবে হলেও ঈদের আগে-পরে দেশকে শান্ত রাখুন।
আপনার মন্তব্য