নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জুলাই, ২০১৫ ০০:২৭

কামরুল বলে- ‘চোর ধরছি, তুই ভিডিও করি ইন্টারনেটও ছাড়ি দে’ : আদালতে নুর

কামরুলের নির্দেশেই শিশু রাজনের উপর নির্মম নির্যাতনের ভিডিও চিত্র মোবাইলে ধারণ করেছে বলে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেছে নুর মিয়া। অপরদিকে, রাজনকে মারধরে কথা স্বীকার করেছে আরেক আসামী দুলাল আহমদ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ দু’জন সিলেট মহানগর হাকিম আনোয়ারুল হকের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে নূর জানায়, ঘটনাস্থলের পাশে নুর আহমদের একটি অটোরিকশা ওয়ার্কশপ রয়েছে। ঘটনার আগের দিন সারারাত ওখানে ডেন্টিংয়ের কাজ শেষে সে ওয়ার্কশপেই ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধোয়ার জন্য পুকুরে যাওয়ার সময় সে কামরুল, চৌকিদার ময়না ও অজ্ঞাত লম্বা একটি ছেলে (নাম জানা নেই) মিলে রাজনকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করতে দেখে। তখন কামরুল তাকে ‘ভাগনা’ বলে সম্মোধন করে ‘চোর ধরছি, তুই ভিডিও করি ইন্টারনেটও ছাড়ি দে’ বলে ডেকে নেয়।

কামরুলের কথামতো ভিডিও করার কথা জানিয়ে নুর বলে, দুপুরের দিকে খবর পাই শিশু রাজন মারা গেছে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে গেছে ভেবে মোবাইলের ভিডিওটি লোকজনকে দেখাই। ওই সময় অনেকেই ভিডিওটি ব্লু-টুথ করে মোবাইল ফোনে নেয় বলে জানায় সে।

এদিকে, দুলাল আহমদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, সে একজন চা বিক্রেতা। ঘটনাস্থলের পাশে একটি টং ঘরে সে চা বিক্রি করে। ঘটনার দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পায় চৌকিদার ময়না একটি গ্যারেজের পাশে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে একটি শিশুকে মারধর করছে। এ সময় ময়নার হাতে থাকা লাঠি নিয়ে কামরুল শিশুটিকে পিটাতে শুরু করে। তারা আমাকে বলে ভ্যান চুরি করার সময় তাকে হাতে নাতে ধরেছে। তখন সে নিজে রাজনকে মারধর করলেও শিশুটি কিভাবে মরেছে, তা জানে না বলে দাবি করেছে দুলাল।

এরআগে সোমবার আরেক আসামী একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

আলোচিত এই হত্যাকান্ডের ঘটনার ইতোমধ্যে এক নারীসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে রিমান্ডে রয়েছেন ৩ জন। রিমান্ডে থাকা মুহিত আলম, ইসমাইল হোসেন আবলুস, আলী হায়দার এবং রুহুল আমিনও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার।

এছাড়া এই মামলায় জেল হাজতে রয়েছেন মুহিত আলমের স্ত্রী লিপি বেগম, প্রত্যক্ষদর্শী ফিরোজ ও আছমত আলী।

গত ১৫ জুলাই দুলাল আহমদ ও নুর মিয়াকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এলাকাবাসী। এরপর তাদের ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই তারা দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।

৮ জুলাই সকালে চোর সন্দেহে পৈশাচিক নির্যাতন করে ১৩ বছরের শিশু সামিউল আলম রাজনকে হত্যা করা হয়। নিহত রাজন কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী ভাইয়ারপাড় গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে।

শিশু রাজনকে পেটানোর ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে নির্যাতনকারীরাই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও দেশ-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত