কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

০১ এপ্রিল, ২০১৯ ১৭:৫২

ঝড়ে ২৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন কমলগঞ্জ

বেশি দুর্ভোগ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও গ্যাস নির্ভর যানবাহন চালকদের

প্রতিকী ছবি

বৈশাখ শুরু হওয়ার আগেই আগাম ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উপজেলার বাসিন্ধারা। রোববার (৩১মার্চ) সকালের ঝড়ে ঘর-বাড়ি বিধ্বস্তের সাথে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা। যার ফলে রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে  সোমবার (১ এপ্রিল) বেলা ২টা পর্যন্ত কমলগঞ্জ উপজেলা ছিল বিদ্যুৎবিহীন। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করে প্রায় ২৮ ঘন্টা পর কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

এমতাবস্থায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও গ্যাস নির্ভর যানবাহনের চালকরা। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে রোববার রাতভর পরীক্ষার্থীদেরকে চার্জার, মোমবাতি ও হারিকেন জালিয়ে পড়াশুনা করতে হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন স্থানে গাছগাছালি উপড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। টানা বৃষ্টি আর ঝড় বাতাসের কারণে বিদ্যুৎকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যুৎ লাইনের মেরামত কাজ করতে পারেনি। সোমবার সকাল থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হলে বিদ্যুৎকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্থ লাইন মেরামত কাজ শুরু করেন। লাইন মেরামত শেষে বেলা ২টায় কমলগঞ্জ উপজেলা সদর, শমশেরনগরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আংশিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়।

সরজমিনে দেখা যায়, সোমবার সকালে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কমলগঞ্জে ২০১৯ সনের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়। আবহাওয়ার আবারও অবনতি হলে কক্ষে আলোর স্বল্পতা থাকার আশঙ্কায় এ সময় অনেক পরীক্ষার্থীকে চার্জার বাতি নিয়ে আসতে দেখা যায়।

কমলগঞ্জ সরকারি গণ-মহাবিদ্যালয় কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মিঞা বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কক্ষে আলোর স্বল্পতা হলে সেখানে চার্জারসহ নিজস্ব উদ্যোগে আলোর বিকল্প ব্যবস্থা রাখা ছিল। তবে আজ পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আকাশে সূর্য্যরে আলো ছিল বলে কক্ষগুলো পর্যাপ্ত আলো ছিল।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় কমলগঞ্জের শমশেরনগরে একমাত্র গ্যাস ফিলিং স্টেশনটি কোন যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি। তাই গ্যাসের অভাবে রোববার বিকাল থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত কমলগঞ্জে যানবাহন চলাচল ছিল খুবই কম। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় রোববার রাত থেকে গ্যাস ফিলিং স্টেশনে যানবাহন নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে গ্যাস নির্ভর যানবাহনের চালকদের।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম মো. মোবারক হোসেন সরকার জানান, ঝড়ের কারণে বৈদ্যুতিক খুটি ভেঙ্গে, খুটি থেকে ট্রান্সফরমার পড়াসহ বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙ্গে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের বেশ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মেরামত কাজ শেষে বেলা দেড়টায় আংশিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। পর্যায়ক্রমে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, টানা ২৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সরকারি, বেসরকারি অফিস কোথাও স্বাভাবিক কাজ করা যায়নি। তার উপর গ্রামীণ ফোনের নেটওয়ার্ক সমস্যা ছিল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত