২২ এপ্রিল, ২০১৯ ১৭:২৯
‘সরকার আমারে স্বীকৃতি দিছুইন তাতেই আমি খুশি। আমি মরলেও আমার আত্মা শান্তি পাইবো। অনেক কষ্ট করছি এতোদিন। এই স্বীকৃতি পাইয়া মনে হয় এই কষ্ট এখন শেষ অইবো।’
সরকারের বীরাঙ্গনা গেজেটে তালিকাভুক্তির কাগজ হাতে পাওয়ার পর আবেগ জড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন গোয়াইনঘাটের বীরাঙ্গনা কোকিলা বেগম।
গত ২৪ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রথীন্দ্র নাথ দত্ত স্বাক্ষরিত গেজেটে কোকিলা বেগমসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ১০ জন নারীকে বীরাঙ্গনা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের আলীরগ্রামের মরহুম হাসন আলীর স্ত্রী কোকিলা বেগম। অভাব, অনটন তার নিত্য সঙ্গী থাকায় রাস্তায় মাটির কাজ,মানুষের বাড়ীতে গৃহকর্মীর কাজ এবং ভিক্ষাবৃত্তি করে দিনপার করছেন। বিলাল উদ্দিন এবং দুলাল আহমদ তাহার দুই সন্তান আছেন। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে তেমন লেখাপড়া করাতে পারেননি সন্তানদের।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাটের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সহসভাপতি কামাল হোসেন বলেন, জাতির শ্রেষ্ট সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী সব সময় নিজের পরিবারের সদস্য ভাবেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সব সময় আস্থাশীল। সরকারের মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবারের প্রতি উদারতা এবং সহযোগিতার হাত বাড়ানোর দৃষ্টান্ত থেকে দাবী করবো যেন অচিরেই গোয়াইনঘাটের স্বদ্য স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনা কোকিলা বেগমের ভাঙ্গা ঘরটা যেন একটি পাঁকা বাড়ীতে রুপান্তরিত হয়।
গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, আমরা জানতে পেরেছি কোকিলা নামে আমাদের উপজেলায় একজন নারীকে বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্তে কাগজপত্রাদি আমরা হাতে পেলেই তাকে তার রাষ্ট্রীয় প্রাপ্ত সকল সুযোগ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপনার মন্তব্য