০৩ মে, ২০১৯ ২৩:৫৮
গেল দুইবছর আগাম বন্যার কারণে হাওরের বোরো ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি। তবে এ বছর প্রায় সবকয়টি হাওরে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। হবিগঞ্জের প্রতিটি হাওরেই সোনালি ধানের দোল খাওয়ানিতে উৎফুল্ল কৃষকের মন। যদিও আবহাওয়া নিয়ে সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে হবিগঞ্জের প্রতিটি হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে।
তবে শ্রমিক সংকটে অনেকটা হোচট খেতে হচ্ছে কৃষকদের। পাঁকা ধান মাঠে সোনালী ঝিলিক দিলেও শ্রমিক সংকটের কারণে ঘরে তোলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের (কৃষকদের)। চড়া মজুরিতেও মিলছে না শ্রমিক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় বোরো ধানের আবাদ লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো, ১ লাখ ১৫ হাজার ১শ’ ১৫ হেক্টর জমিতে। কিন্তু লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় আবাদ হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। এছাড়া বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো, প্রতি হেক্টর জমিতে ৩.৯৫ মেট্রিকটন। যা অতিক্রম করে উৎপাদন এবার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৪.০৫ মেট্রিকটন। সে অনুযায়ি জেলায় মোট বোরো ধান উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেছিলো, ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭শ’ ৪ মেট্রিকটন। যা লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭শ’ ৫০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ধানের এমন ফলনে খুশি হবিগঞ্জের কৃষকরা। প্রচন্ড তাপদায়েও কণ্ঠে ভাটিয়ালি গান ধরে ধান কাটছেন কৃষকরা। আর নারী-বৃদ্ধ, বৃদ্ধারা খলায় (ধান তুলার মাঠে) কাজ করছেন বিশ্রামহীনভাবে। এদিকে, উঁচু জমিতে ধানকাটা শুরু হলেও নিচুঁ এলাকার প্রায় ৩৫ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তরের দাবি শ্রমিক সংকট না থাকলে ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে যেত।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী বলেন, এ বছর ধানের ভালো ফলন হওয়ায় উৎপাদন লক্ষমাত্র ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ‘হাওরে অনেকটা শ্রমিক সংকট দেখা না দিলে নিচুঁ জমির ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে যেত। তবুও ৩৫ শতাংশ কাটা হয়ে গেছে। যেহেতু নিচুঁ জমি নিয়েই সব চেয়ে বেশি শঙ্কা সেহেতু আশা করা যাচ্ছে কয়েকদিনের মধ্যেই নিচুঁ জমিগুলোর ধান কাটা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। তবে জেলা কৃষি সম্প্রচারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠের খোঁজ খবর রাখছেন বলেও জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য