০৮ মে, ২০১৯ ১৫:২৬
আবুল হোসেন নামের এক নবম শ্রেণির ছাত্রের সচেতনতায় অল্পের জন্য বড় ধরণের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে পাঁচ শতাধিক যাত্রীবাহী চট্টগ্রাম অভিমুখী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন।
মঙ্গলবার (৭ মে) রাত ১১টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউনিয়নের ঈদগাহ টিলা গ্রাম এলাকার সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ৩০৬/২ নং রেলপথ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে ।
বুধবার (৮ মে) দুপুরে সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউনিয়নের ঈদগাহ টিলার খোকন মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন। কমলগঞ্জের কামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় আবুল হোসেন স্থানীয় সায়েদ কবিরাজের বাড়ি থেকে ফেরার পথে রেলের পাত ভেঙ্গে ফাঁক হয়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীদের অবহিত করে। গ্রামবাসীরা এ খবরটি দ্রুত শমশেরনগর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য শেখ রায়হান ফারুক এর মাধ্যমে শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কবির আহমদ ও শ্রীমঙ্গলস্থ রেলওয়ের গণপূর্ত বিভাগকে অবহিত করেন।
এ খবর পেয়ে দ্রুত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙ্গা রেলপাত সরিয়ে সেখানে নতুন এক টুকরো রেলপাত বসিয়ে দেন। প্রায় একঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এসময় শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনে চট্টগ্রাম অভিমুখী আন্তঃনগর পাঁচ শতাধিক যাত্রীবাহী উদয়ন এক্সপ্রেস শমশেরনগর স্টেশনে আটকা পড়েছিল। আর ঢাকাগামী আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন কুলাউড়া স্টেশনে আটকা পড়েছিল।
এ ব্যাপারে আবুল হোসেন বলে, মঙ্গলবার রাতে একটি কাজে সায়েদ কবিরাজের বাড়ি গিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার সময় টর্চ লাইটের আলোতে দেখি রেলপথের একটি পাত দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়েছে। আমার মনে হয় এ অবস্থায় ট্রেন চলাচল করলে বড় ধরণের দুর্ঘটনা হবে। তাই আমি গ্রামবাসীকে বিষয়টি বলি। আমার কথা শুনে তারা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
শমশেরনগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য শেখ রায়হান ফারুক বলেন, ছাত্রটি সচেতন হয়ে বিষয়টি গ্রামবাসীকে না জানালে আমিও জানতেন না। ঘটনাস্থল রেলপথের বাঁক এলাকা বলে এসময় ট্রেন চলাচল করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেত। আমি শমশেরনগর স্টেশন মাস্টারকে এ বিষয়ে জানিয়ে রেলওয়ের গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহিত করলে তারা দ্রুত ভাঙ্গা রেলপাত সরিয়ে নতুন একটি পাত প্রতিস্থাপন করে।
শমশেরনগর স্টেশন মাস্টার কবির আহমদ বলেন, আসলেই ছাত্র আবুল হোসেনের সচেতনতায় সম্ভাব্য একটি রেল দুর্ঘটনা থেকে বাঁচা গেল। এ খবর শুনে রেলওয়ে গণপূর্ত বিভাগের শ্রীমঙ্গলস্থ ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেনকে অবহিত করলে তিনি সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এসে দ্রুত ভাঙ্গা রেলপাত সরিয়ে নতুন একটি পাত স্থাপন করেন। প্রায় আধাঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শ্রীমঙ্গলস্থ রেলওয়ে গণপূর্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখন এ রেলপথ ঝুঁকিমুক্ত আছে। সময়মত স্কুল ছাত্র খবরটি না জানালে আসলেই একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো।
আপনার মন্তব্য