নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ জুলাই, ২০১৯ ০১:২৮

তুমি কি কেবলই ছবি?

সিলেট নগরীর মনিপুরী রাজবাড়ি এলাকার সড়কের পাশে একতলা একটি বাসা। বাসার সামনে নেমপ্লেটে এখনও লেখা রয়েছে- 'সুপ্রিয় চক্রবর্তী, এডভোকেট'। বাসার সামনের দিকেরই একটি কক্ষে ছিলো তাঁর চেম্বার। প্রতি সন্ধ্যায় সেখানে দেখা মিলতো তাঁর। আয়কর সংক্রান্ত নানা পরামর্শ দিতেন সেবা প্রত্যাশীদের।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও এই কক্ষটিতে অনেক লোকের ভিড়। রাজনৈতিক নেতা, কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, সমাজকর্মী, ক্রীড়া সংগঠকসহ নগরের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিই জড়ো হয়েছেন এখানে। তিনিই কেবল নেই।

তিনি আছেন পাশের আরেকটি কক্ষে। ছবি হয়ে। সুপ্রিয় চক্রবর্তী রঞ্জুর একটি বড় ছবি বাঁধাই করে রাখা হয়েছে এ কক্ষে। ফুলে ফুলে ঢেকে গেছে সে ছবি। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে হালকা সুরে রবীন্দ্রনাথের গান বাজছে- তুমি কি কেবলই ছবি?

মঙ্গলবার রাতে বিশিষ্ট ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক সুপ্রিয় চক্রবর্তী রঞ্জুর বাসায় গিয়ে দেখা যায় এ দৃশ্য। আগের রাতেই সত্যি সত্যি ছবি হয়ে গেছেন সিলেটের সকলের প্রিয় রঞ্জু দা।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে মারা যান তিনি। মৃত্যুর আগেই দেন দান করেছিলেন কুমুদিনী হাসপাতালে। তাঁর ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়েছে পরিবার। তাই লাশ আসেনি সিলেটে। কোনো শেষকৃত্যেরও প্রয়োজন পড়েনি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুপ্রিয় চক্রবর্তীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা করেন তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা। খোলা হয়েছিলো শোকবইও।

সিলেটের বিশিষ্ট এই নাগরিককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাই তাঁর বাসায় হাজির হয়েছিলেন নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। প্রতিকৃতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। শোকবইয়ে লিখে রাখেন শোকগাঁথা।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সাবেক সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, প্রবীণ রাজনীতিবিদ বেদানন্দ ভট্টাচার্য, কবি তুষার কর, শিক্ষাবিদ বিরাজ মাধব চক্রবর্তী মানস, সিলেট স্টেশন ক্লাবের সভাপতি এমাদউল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহিন, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস দাশ পুরকায়স্থ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সভাপতি আমিনুল ইসলাম লিটন, নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু, বিসিবি পরিচালক শফিউল আলম নাদেলসহ নানা অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা শ্রদ্ধা জানান কর্মবীর এই ব্যক্তিকে।

প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকার বারডেম হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এই আইনজীবী। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত কারণে তিনি গত ১৩ জুলাই ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৫ বছর।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল ও একমাত্র মেয়ে সুদেষ্ণা চক্রবর্তী দিয়াসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সাবেক ক্রিকেটার সুপ্রিয় চক্রবর্তী মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সিলেট জেলা ক্রিকেট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, সিলেটের আহ্বায়ক হিসেবে সিলেটে রবীন্দ্র চর্চায় ভূমিকা রাখেন।

সিলেট সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, কথাকলি'র সাবেক সভাপতি ও নৃত্যশৈলী সিলেটের উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তী সিলেট জেলা কর আইনজীবী সমিতির দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও তিনি সিলেট ডায়াবেটিক সমিতি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আজীবন সদস্য ও সিলেট ষ্টেশন ক্লাবের জীবন সদস্য ছিলেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত