২৭ মার্চ, ২০২০ ২৩:৫৮
অতিথি পরায়ণ হিসেবে খ্যাতি রয়েছে বাঙালির। অথচ এমনই দিন পড়েছে, এখন বাসার ফটকে টানাতে হচ্ছে অতিথি প্রবেশ না করার অনুরোধ সম্বলিত নোটিশ।
অপরদিকে, ব্যবসায়ীদের কাছে সবচেয়ে কাম্য হচ্ছেন ক্রেতা। অথচ এখন ক্রেতা দোকানের ভেতরে প্রবেশ না করার জন্য অনুরোধ করে নোটিশ টানাতে হচ্ছে।
শুক্রবার নগরীর ঘুরে এমন অদ্ভুত সব নোটিশের দেখা মেলে।
বলার অপেক্ষা রাখে না করোনাভাইরাস আতঙ্ক থেকেই জন্ম এসব নোটিশের। বিশ্বজুড়েই মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশও ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। করোনার সংক্রমণ এড়াতে সঙ্গ ত্যাগ করা ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাসায় আসা অতিথি ও দোকানে আসা ক্রেতার মাধ্যমেও ছড়াতে পারে এমন ভাইরাস। ফলে অতিথি আর ক্রেতাকে আপাতত দূরেই রাখতে হচ্ছে।
নগরীর কানিশাইল এলাকার 'লস্কর ভিলা' নামে একটি বাসায় গিয়ে দেখা যায় বাসার গেইটে নোটিশ টানানো, যাতে লেখা রয়েছে- 'করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার স্বার্থে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে বাসার ভেতরে প্রবেশ না করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।'
এদিকে, নগরীর মদিনা মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, স্বপ্না ডিপার্টমেন্টাল স্টোর নামে একটি মুদি দোকানের সামনে দড়ি দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। দড়িতে ঝুলানো কাগজে লেখা রয়েছে- করোনা ভাইরাসের কারণে দোকানের বাইরে থেকে মালামাল ক্রয় করুন, ভেতরে প্রবেশ করবেন না'।
স্বপ্না ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মিহির চৌধুরী বলেন, দোকানে নানা ধরণের মানুষ আসেন। তাদের কেউ নিজের অজান্তেই শরীরে ভাইরাস বহন করে থাকতে পারেন। এজন্য সচেতনতার অংশ হিসেবে দোকানের ভেতরে প্রবেশ না করতে ক্রেতাদের অনুরোধ করেছি।
তিনি বলেন, আমার দোকানে আসা সকল ক্রেতাদের প্রথমেই স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুইয়ে দেই।
এসব উদ্যোগকে সচেতনতার লক্ষণ হিসেবেই দেখছেন স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ পরিচালক দেবপদ রায়। তিনি বলেন, এই সময়ে সবার থেকেই কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলা ভালো। বাসায় অতিথি বা আত্মীয় স্বজন এখন না নেওয়াই উচিত। বরং সবাই এখন যার যার ঘরে থাকা সবচেয়ে ভালো।
আপনার মন্তব্য