২৮ মার্চ, ২০২০ ১৯:৩৬
ফাইল ছবি
করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চা বাগানসমূহে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়নি। তাই বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) কমলগঞ্জ উপজেলার ৫টি চা বাগানের শ্রমিকরা কাজ বর্জন করে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান নিয়েছিলেন। আজ কমলগঞ্জের আরও একটি চা বাগানের শ্রমিকরা কাজ বর্জন করেছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের মৃর্তিংগা চা বাগানের ১ হাজার ১৫ জন চা শ্রমিক স্বেচ্ছায় কাজ বর্জন করেন। তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনা করে তারা স্বেচ্ছায় ছুটিতে রয়েছেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির (অঞ্চলের) কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা বলেন, শনিবার সকালে মৃর্তিংগা চা বাগানের ১ হাজার ১৫ জন শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে সাধারণ ছুটির জন্য ব্যবস্থাপকের কাছে জোর দাবি জানান। এ দাবির প্রেক্ষিতে মৃতিংগা চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সমর্থন জানালে ব্যবস্থাপক ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
মৃর্তিংগা চা বাগানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক প্রদীপ বর্মণ বলেন, চা বাগান মালিক পক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ ও শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে চা বাগানে ছুটির কোন নির্দেশনা আসেনি। তাই ছুটি দেওয়া হয়নি। তবে এ চা বাগানের চা শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে তাদের (অর্জিত ছুটি থেকে) শনিবার থেকে ছুটি দেওয়া হয়।
এদিকে কমলগঞ্জে সরকারি মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসির) ৫টি চা বাগান রয়েছে। এসব চা বাগানে ছুটির দাবিতে গত শুক্রবার থেকে চা শ্রমিক ও চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির মধ্যে আলোচনা চলছে। চা শ্রমিক ইউনিয়ন মনু-ধলই ভ্যালির কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা বলেন, আশা করা যাচ্ছে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে দ্রুত সরকারিভাবে ছুটির নির্দেশনা আসবে।
এনটিসির মালিকানাধীন সবচেয়ে বড় চা বাগান পাত্রখোলার ব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশীয় চা সংসদ ও শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে চা বাগানের ছুটির নির্দেশনা আসেনি। তাই চা বাগানে ছুটি দেওয়া হয়নি। ছুটির নির্দেশনা আসলে অবশ্যই ছুটি দেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য